বাঘাতে বিপুল পরিমাণ ভেজাল গুড় জব্দ

আপডেট: জুন ১৩, ২০২৪, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

আরো কঠোর আইনি ব্যবস্থা চাই


ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করা হলেও বন্ধ হচ্ছে না ভেজাল গুড় তৈরির প্রবণতা। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন ভেজাল গুড় স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
ভেজাল গুড়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি চিনি, ময়দা, ডালডা, হাইড্রোজ ও টেক্সটাইলের রং মিশিয়ে গুড় তৈরি করার খবর প্রায়ই সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হয়। শুধুমাত্র জরিমানা গুণেই ব্যবসায়ীরা রেহায় পেয়ে যায়। ফলে একই অপরাধে বারবার জড়িয়ে পড়ে অসৎ ব্যবসায়ীরা।

সোমবার বাঘায় র‌্যাব-৫ এর পৃখক তিনটি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল গুড় জব্দ করা হয়েছে। এ সময় কারখানা মালিকদের কাছ থেকে ৯৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। জব্দকৃত গুড় ধ্বংস করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, তিনটি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভেজাল গুড় ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০ কেজি, ভেজাল লালি গুড় ৯৪ হাজার ৮৫৯ কেজি, ভেজাল চিটাগুড় ৯৩ হাজার ১০০ কেজি, চিনির সিরা ৯২ হাজার ৯৯০ লিটার, হাইড্রোজ ১১ কেজি, ডালডা সাড়ে ৮ কেজি, ফিটকিরি সাড়ে ৬ কেজি ও চুন ৫ কেজি জব্দ করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে ভেজাল গুড়ে সাধারণত অত্যধিক পরিমাণে চিনি মেশানো থাকে। তবে ভালো খবর হল, চিনি থেকে তেমন কোনো বড় বিপদের আশঙ্কা থাকে না। বরং গুড়কে আরো গাঢ় করতে যে সব রং ও রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় তা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এই ধরনের ভেজাল গুড় খাওয়ার কারণে বড়সড় বিপদের সম্মুখীন হতে পারে লিভার। এমনকী স্নায়ুতন্ত্রের উপরও ভেজাল গুড় বড়সড় আঘাত হানতে পারে। শুধু তাই নয়, এমন রাসায়নিক মিশ্রিত গুড় নিয়মিত খেলে ক্যানসারের মতো মারণ অসুখও হতে পারে।

ভেজাল গুড়ের বিষয়টি বহুলভাবে আলোচনায় থাকলেও ভোজাল গুড় তৈরির প্রবণতা বন্ধ হচ্ছে না। জরিমানা ভেজাল গুড় জব্দ করেই শুধু এই অসাধু তৎপরতা বন্ধ হবে না। জরিমানার সাথে সাথে কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও করতে হবে। এটা স্পষ্ট যে, জরিমানা ও জব্দ ভেজাল গুড় ধ্বংস করলেও পরবর্তীতে ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েও অধিক লাভবান হয় ব্যবসায়ীরা। ফলে তারা ভেজাল গুড়ের বেসাতি থেকে সরে যাচ্ছে না। এ জন্য জেল-জরিমানা উভয়দণ্ড নিশ্চিত করা গেলে ভেজাল গুড় তৈরির প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্বব হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ