বাঘায় আ’লীগের সংঘর্ষের ঘটনার মেয়র আক্কাছকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ

আপডেট: জুন ২৫, ২০২৪, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ


বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :


রাজশাহীর বাঘায় আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় দ্রুত আইনে মামলার প্রধান আসামী পৌর মেয়র আক্কাছ আলীকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ জুন) বিকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে থেকে শুরু করে বিক্ষোভটি বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিণ করে। পরে একই স্থানে এসে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

রোববার (২৩ জুন) উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর রহমান পিন্টু বাদী হয়ে দ্রুত আইনে মামলার প্রধান আসামী করা হয়েছে বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাছ আলীকে। এছাড়া আরো আসামী করা হয়েছে জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোকাদ্দেসসহ ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে ২০০ থেকে ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে।

এ মামলায় পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাকুড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম মেরাজ, মারুফ হোসেন, তরঙ্গ আলী, শাজামাল লিটন, নাসির উদ্দিন, মতিউর রহমান, গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করে।
এদিকে মামলর পর থেকে মেয়র আক্কাছ আলী ও উপজেলা চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলুসহ তাদের অনুসারী নেতাকর্মীরা গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে-শনিবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের ডাকে উপজেলা পরিষদের সামনে মূল সড়কে পৌর মেয়র আক্কাছ আলীর দুর্নীতি, স্বজন প্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন চলছিল। এ সময় আসামীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

সেখানে কয়েকটি পিস্তলের গুলিবর্ষণ করা হয়। আতঙ্কে তারা মানববন্ধন ছেড়ে উপজেলা চত্বরের ভেতরে পালাতে গেলে আসামীরা এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল ও পাথর ছোড়ে। এ অবস্থায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম উপজেলা অডিটরিয়ামের সামনে পড়ে গেলে তাকে চায়নিজ কুড়াল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার বাঁ-পাশে আঘাত করেন আক্কাছ আলী।

২ নম্বর আসামী মেরাজুল ইসলাম তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আশরাফুল ইসলামের ঘাড়ে আঘাত করেন। আসামীদের ইটপাটকেল ও পাথরের আঘাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের গ্লাস ও কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করায় আনুমানিক ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। আহত আশরাফুল ইসলাম রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) চিকিৎসাধীন।

বাঘা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর রহমান পিন্টু বাদী হয়ে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা করেন। এ মামলায় ৪৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

মেয়র আক্কাছ আলীর নামে ২০২২ সালের ২১ মার্চ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে হামলা ও বিভিন্ন সময় একাধিক সন্ত্রাসী এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামার মামলা রয়েছে। তবে মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। প্রধান আসামীসহ সকল আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ