বাঘায় খোলা আকাশের নিচে প্রতিবন্ধী স্বামী ও ছেলেকে নিয়ে আছিয়ার বসবাস

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৪, ২:৪০ পূর্বাহ্ণ


আমানুল হক আমান, বাঘা :খোলা আকাশে নিচে আছিয়া বেগম (৬০) চুলার উপর ডাল ভর্ত্তা দিয়ে ভাত রান্না করছেন। পাশে বসে আছেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্বামী মইরুলদ্দিন (৬৭), প্রতিবন্ধী ছেলে মনিরুল ইসলাম (৪৫) ও প্রতিবন্ধী নাতী মিনারুল ইসলাম (১৮) তাদের থাকার জায়গা নেই। কথাও জায়গা না পেয়ে চার সদস্যের পরিবার নিয়ে ১৫ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন আছিয়া বেগম।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে দেখা যায় অসহায় আছিয়া বেগমের জীবনচিত্র।

জানা যায়, ভূমিহীন-গৃহহীন আছিয়া বেগম। বাস করছিলেন অন্যের জমিতে। সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। এখন খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। আড়ানী রুস্তরপুর ভারতীয়পাড়া গ্রামের মইরুলদ্দিনের সাথে ৫০ বছর আগে আছিয়া বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে জন্ম নেয় ৬টি সন্তান। এ গ্রামে তারা বসবাস করতেন। সন্তান মানুষ করতে গিয়ে যতোটুকু জমি ছিল, তা বিক্রি করে নি:স্ব হয়ে যায়।

সেখানে স্বামী মইরুলদ্দিনের পরিবার থেকে লাঞ্ছিত হয়ে ৫ বছর আগে চলে যান খুর্দ্দোবাউসা গ্রামে আছিয়া বেগমের মা ফুলজান বেগমের বাড়িতে। ফুলজান বেগম মারা যাওয়ার পর এখানকার জমি নিয়ে ইনছার আলীর সাথে আদালতে মামলা চলছে। এখান থেকেও সে লাঞ্ছিত হয়ে চলে যান বাউসা ইউনিয়নের টাইরীপাড়া বাউসা গ্রামে।

সেখানে আলাউদ্দিন নামের এক ব্যক্তির কাছে মাসে ভাড়া হিসেবে ছোট একটি কুঁড়েঘরে বসবাস করতেন। আলাউদ্দিন প্রয়োজনের তাগিদে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন। ফলে নিরুপায় হয়ে পড়েন আছিয়া বেগম। কোন উপায় না পেয়ে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ১৭ দিন আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে তিনটি ছাগল ও কয়েকটি মুরগি নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছিলেন। এ অববস্থা দেখে পাঁচপাড়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর বাড়িতে আশ্রয় দেন। সেখানে তারা থাকতে না পেরে ৯ জানুয়ারি থেকে পূনরায় আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।

এ বিষয়ে আছিয়া বেগম বলেন, নিরুপায় হয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্বামী, প্রতিবন্ধী ছেলে ও প্রতিবন্ধী নাতীকে নিয়ে ১৫ দিন থেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি। খাওয়ার কিছুই নেই। ক্ষুদা লেগেছে তাই বাজার থেকে এক কেজি চাল ও এক কেজি বেগুন নিয়ে এসেছি। এগুলো এখন রান্না করছি। কথায় যাবো, কি করবো, কিছুই বুঝতে পারছিনা।

তবে আছিয়া বেগম দাবি করেন, সরকার ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে ঘর দিচ্ছেন। সরকারিভাবে গুচ্ছ গ্রাম বা কথায় একটু ব্যবস্থা করে দিলে প্রতিবন্ধী স্বামী, সন্তান ও নাতীকে নিয়ে বাকি জীবনে কিছুটা হলেও সুখ মনে করতাম।

এদিকে আছিয়া বেগমের মেয়ে ঝর্না বেগমের বিয়ে হয়ে স্বামীর সাথে সংসার করছেন। ছেলে ইকবাল হোসেন স্ত্রী সন্তান নিয়ে অন্যের জমিতে বসবাস করছেন। আরিফ হোসেন নামের আরেক ছেলেকে ২০১৮ সালে কে বা কারা হত্যা করে মাঠের মধ্যে লাশ ফেলে রাখা হয়েছিল। আতাউল হোসেন নামের আরেক সন্তান কয়েক বছর থেকে নিখোঁজ রয়েছে। তার সন্ধান আজও পায়নি। এ কথাগুলো বলতে বলতে আছিয়া বেগম হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন।

এ বিষয়ে আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, এর আগেও এখানে এসে কিছুদিন ছিল। আবারও হঠাৎ দেখছি ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে আছিয়া বেগম তার পরিবার নিয়ে বসে আছেন। তাদের সাথে কখা বলেছি, তাদের থাকার কোন জায়গা নেই। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নিব।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ