বাঘায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা ও হামলায় গ্রেফতার ২

আপডেট: জুন ৮, ২০২৪, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:


রাজশাহীর বাঘা উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী একের পর সহিংসতা ও হামলা ঘটনা ঘটে ঘটছে। এ ঘটনায় চারটি অভিযোগ করা হয়েছে। গ্রেফতারও করা হয়েছে দু’জনকে।
৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে বাঘায় নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাভলু’র (মোটরসাইকেল) প্রতিকের কর্মী সমর্থকরা পরাজিত প্রার্থী জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রোকনুজ্জামান রিন্টু’র (আনারস) প্রতিকের কর্মী সমর্থকদের উপর একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় বাউসা মাঝপাড়া গ্রামের সেন্টু আলী, বাবলু হোসেন, জাহিদ হোসেন, রাকিবুল ইসলাম শিমুল নামের চার ব্যক্তি পৃথক চারটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনার সাথে জজিত ২জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, শনিবার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বাঘা-আড়ানী সড়কের পাঁচপাড়া সাঁকোর পাশে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলার বাউসা ইউনিয়ন আওয়ামী সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদের মাঝপাড়া গ্রামের বাড়িতে ৫ জুন রাতে এ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাভলু’র সমর্থিত লোকজন ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় জাহিদুল ইসলাম একটি মামলা করেন। এই মামলায় ৬ জুন পুলিশ বাউসা মাঝপাড়া গ্রামের রমজান আলী (৫২) ও বাউসা হেদাতিপাড়া গ্রামের নূরল ইসলামকে গ্রেফতার করেন।

৬ জুন এ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাভলু’র সমর্থিত লোকজন বাউসা ইউনিয়নের ধন্দহ গ্রামে রোকনুজ্জামন রিন্টু’র সমর্থিত বাবলু হোসেনের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাবলু বাদি হয়ে মামলা করেছেন।
একই গ্রামের ভ্যানচালক সেন্টু আলীকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় সেন্টু বাদি হয়ে মামলা করেন।

এ দিকে মাঝপাড়া গ্রামের মরহুম মীর মুক্তিযোদ্ধার হায়দার আলীর ছেলে রাকিবুল ইসলাম শিমুলের বাড়ি রাত সাড়ে ৭টার দিকে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এতে তার বাড়ির আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজ জানালা, দরজা, আলমারি ভাঙচুর করা হয়েছে। রাকিবুল ইসলাম শিমুলের নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকাসহ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

বিষয়ে রোকনুজ্জামান রিন্টু বলেন, নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণার শুরু থেকে লায়েব উদ্দিন লাভলু সমর্থকরা বিভিন্নভাবে বাধা প্রদান করেন। ভোটের দিন তার কর্মী-সমর্থকরা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ৫ জুন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাভলু বিজয়ী হয়ার পর হতেই একের পর এক তার কর্মী-সমর্থকরা আমার কর্মীদের উপর হামলা-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে বিজয়ী চেয়ারম্যান এ্যাড. লায়েব উদ্দিন লাভলু বলেন, আমার প্রতিদন্বন্দ্বী রোকনুজ্জামান রিন্টু পরাজিত হয়ে নিজেরাই বিভিন্নভাবে অপকর্ম করে আমার লোকজনের উপর একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে গ্রেফতার করে হয়রানি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাঘা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমানিত হলে অবশ্যই আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করো হবে। তবে এরমধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ