বাঘায় ৫০ কোটি টাকার হলুদের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৪, ৭:০৮ অপরাহ্ণ


আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী):জেলার বাঘায় ৫০ কোটি টাকার হলুদের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রয়েছে। ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মসলা জাতীয় শস্য হলুদের চাষ। হলুদ উঁচু পতিত বাড়ির আঙিনা, আমবাগানে অধিকতর হলুদের চাষ হয়। এ হলুদ মানে ও গুণে ভালো। বাঘার উৎপাদিত হলুদ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা পূরণ করে।

জানা যায়, সহস্রাধিক মানুষের জীবিকা নির্ভর আড়ানীর এ হলুদ চাষের উপর। কাঁচা হলুদ বিক্রি উপযোগী করতে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় দুই শতাধিক চাতাল। কাঁচা হলুদ বাছাই থেকে শুরু করে সেদ্ধ, শুকানো ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাতাল মালিক ও শ্রমিকরা।

উপজেলায় এবারে ৪৭৪ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ হয়েছে। শুকনা হলুদ পাওয়া যায় ২ হাজার ৬৮ মেট্রিক টন। শুধু আড়ানীতে এ বছর ১ হাজার ৭১৫ মেট্রিক টন শুকনা হলুদ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। হলুদের বাজার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে হলুদ মজুদে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

আড়ানী গোচর গ্রামের হলুদচাষি সেলিম আহমেদ বলেন, হলুদের বীজ জমিতে বপণের পর পাঁচ থেকে ছয় মাস লাগে হলুদ পরিপক্ক হতে। বিঘাপ্রতি কাঁচা হলুদ হয় ৭০-৮০ মণ। এরপর কাঁচা হলুদ গরম পানিতে সেদ্ধ করে সমতল জমিতে চাতাল করে শুকাতে হয়। ২০-২৫ দিন রোদে শুকানোর পর শুকনো হলুদ পাওয়া যায়। শনিবার আড়ানী হাটে প্রকারভেদে শুকনা হলুদ বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ১৬০-২৫০ টাকায়। আর কাঁচা হলুদ বিক্রি হয় ৫০-৫৫ টাকা দরে। চার থেকে পাঁচ মণ কাঁচা হলুদ শুকানোর পর পাওয়া যায় এক মণ শুকনো হলুদ।

গোচর গ্রামের কলিম উদ্দিন বলেন, আগে ফাঁকা জমিতে হলুদ চাষ করতাম। এখন আমবাগানে সাথী ফসল হিসেবে চাষ করছি। হলুদের গাছ গজানোর সময় দু’বার সেচ, প্রয়োজন অনুযায়ী সামান্য রাসায়নিক সার ও কিটনাশক দেয়া লাগে। এতে যে পরিমাণ হলুদ উৎপাদন হবে, তাতে খরচের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি টাকা আয় হবে।

একই গ্রামের জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রথম কয়েক দফা জমি চাষাবাদ করে সার দিয়ে জমি প্রস্তুত করার পর বীজ বপন করতে হয়। আগে হলুদ চাষে তেমন কীটনাশক ব্যবহার করা লাগতো না। এক বিঘা জমিতে হলুদ চাষ করতে ১০-১২ হাজার টাকার মতো খরচ হয়।

আড়ানী পৌর বাজারের হলুদ ব্যবসায়ী একরামুল হক বলেন, আগে আড়ানী এলাকার কৃষকরা হলুদ বেচা-বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। আড়ানী বাজারে সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার দু’দিন হলুদের হাট বসে। সেখানে প্রতি হাটে ১০০ থেকে ৩০০ মণ হলুদ বেচাকেনা হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুকনো হলুদ এবং হলুদের গুড়া অনেকেই সরবরাহ করে।

আড়ানীর মোল্লা ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপক নূর মোহাম্মদ-মোল্লা বলেন, প্রতিবছর ৫থেকে ৭ হাজার মণ শুকনা হলুদ বিভিন্ন কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হয়। তারপর সেই হলুদ কারখানায় বাছাই করা হয়। এর জন্য ২০ েেথকে ২৫ জন শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করেন। বাছাই শেষে আকৃতিভেদে প্যাকেটজাত করে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিক্রি করা হয়।

আবার সরাসরি হলুদের গুঁড়া তৈরির কোম্পানির কাছেও হলুদ বিক্রি করা হয়ে থাকে।
আড়ানী পৌরসভার কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান বলেন, এ এলাকায় যে পরিমাণ হলুদ চাষ হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। এ কারণে সরকার বাজারে হলুদের ন্যায্য দাম পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলে দেশে কখনোই হলুদের সঙ্কট পড়বে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, আগের চেয়ে হেক্টর প্রতি হলুদের উৎপাদন বেড়েছে। কৃষকরাও হলুদ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। আগে যেখানে কৃষকরা হলুদ লাগিয়ে পরিচর্যা না করে ফেলে রাখতেন। এখন সেখানে সেচ-সার ও কীটনাশক দেয়ায় হলুদের উৎপাদন বেশি হচ্ছে।
বর্তমানে হাইব্রিড, বারি ও উফসি জাতের কিছু হলুদের উৎপাদন বেশি হওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে হলুদ চাষে কৃষকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। এখন চেষ্টা করা হচ্ছে, স্থানীয় জাত বাদ দিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ উদ্ভাবিত বেশি ফলনের হলুদ যাতে কৃষকরা চাষাবাদ করেন সেই বিষয়ে উৎসাহিত করা হচ্ছে। #

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ