বাঘার পদ্মার চরের মানুষের ইদের আনন্দ নেই

আপডেট: জুলাই ২৪, ২০২০, ৬:৩১ অপরাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী) :


রাজশাহীর বাঘার পদ্মার চরের মানুষের অব্যাহত নদী ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে। আর কয়েকদিন পর ইদুল আজহা। চকরাজাপুর ইউনিয়নের চরের মানুষের সেই আনন্দের চেয়ে নতুন মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বছর বছর নদীর পাড়ের এসব মানুষের দুঃখের চিৎকার কারো কানেই পৌঁছায় না।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় রক্ষা পায়নি কালিদাসখালী ও লক্ষীনগর চরের ফজল, গনি, ঝড়–, হাসেম, নজিম, বাবু, টিপু, রহিম, কেরামত, তুজাম, আসলাম, আমজাদ, আয়নাল, নবীর, সুজা, মান্নান, নবু, হালিম, নুরু, আনোয়ার, রাজ্জাক, মেরালী, মুক্তা, অর্জন, শুকুর, রওশনারা, তামসের, রফিকুল, বাবুল, জিন্না, মজের, মকুল, সাইদুল, জামান, সামাদ, মিজানুর, লিটন, কামরুল, মজিবর, সাইদুল, মধু, জহুরুল, সামাদসহ শতাধিক বাড়িঘর। রাক্ষুসী পদ্মা কেড়ে নিয়েছে একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই। তা হারিয়ে এখন তারা দিশাহারা। কিন্তু তারপরও কোরবানি ও নতুন কাপড়ের জন্য অবুঝ সন্তানের কান্নাভেজা আবদার বাবা মায়ের কষ্টকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। গত প্রায় তিন সপ্তাহের ব্যবধানে শতাধিক পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে।
কালিদাসখালী চরের মিলন খান জানান, গত কয়েক দিনে রাক্ষুসী পদ্মা গিলেছে বিঘার পর বিঘা ধান, পাট, আবাদি জমি, গাছপালা। ভাঙনের শিকার এসব মানুষদের সহযোগিতা তো দূরের কথা শান্তনা দেবার মতও কেউ নেই। বারবার সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে ভাঙন ঠেকানোর আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সেই ভোটের সময় দেখা হলেও সবহারা এসব মানুষের মহাবিপদে এখন পর্যন্ত পাশে কেউই দাঁড়ায়নি।
চকরাজাপুর চরের আলাল মিঞা জানান, অব্যাহত পদ্মার ভাঙন থেকে বাড়িঘর সরিয়ে সরিয়ে নেয়ার তাড়া। অন্যদিকে ইদে ছেলে মেয়েদের নতুন জামা কাপড়ের আবদার। নতুন কাপড় তো দূরের কথা, ইদের দিন পরিবারের ভালো খাবারের নিশ্চয়তাও নেই। ভাঙনে নিজের জমিটুকু হারিয়ে গেছে। বাড়িঘর সরিয়ে নিয়ে অন্যের জমিতে ঘর তুলার চেষ্টা করছি।
চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, ফসলি জমিসহ গাছপালা, বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে কোনো রকম বেঁচে আছে শতাধিক পরিবার। তারা এখন ঘরবাড়ি সরাতে ব্যস্ত, ইদ করবে কি করে। তবে তাঁর বিদ্যালয়টি গত বন্যায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
এদিকে চরের প্রতিটি বাড়িতে গরু ছাগল পালন করে। গরু ছাগল পালনই তাদের প্রধান পেশা। কোরবানির ইদের আগে বেপারিরা চরের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গরুর দাম করে বায়না করতেন। কিন্তু এবার করোনার কারণে ক্রেতা না আসায় চিন্তায় রয়েছে। এই গরু বিক্রির টাকায় মিটায় পরিবারের চাহিদা। কিন্তু সেই স্বপ্ন অধরা থেকে যাবার আশঙ্কার রয়েছে পদ্মার প্রতিটি চরের মানুষের।
চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম জানান, ভাঙন কবলিত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে কর্তৃপক্ষকে দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ এখনো আসেনি। আসলে দেয়া হবে বলে। তবে কনেকেই ইদ থেকে বঞ্চিত এই চরের মানুষ। তাদের পরিবারে কোনো আনন্দ নেই। ঘর বাড়ি সরাতে তারা এখন ব্যন্ত। এছাড়া করোনার কারণে তারা গরু বিক্রি করতে না পেরে চিন্তায় রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ