বাঘার পদ্মার চরে দুই শতাধিক পরিবারে নেই ঈদ আনন্দ

আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০১৭, ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


আর কয়েকদিন পর ঈদ-উল-আযহা। ঈদের আনন্দের জোয়ারে ভাসছে গোটা দেশ। কিন্তু রাজশাহীর বাঘার পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর চরের মানুষের সেই আনন্দের চেয়ে নতুন মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এবারো তাদের না ছুঁয়ে চলে যাবে ঈদ। বছর বছর নদীর পাড়ের এইসব ছিন্নমূল মানুষের দুঃখের চিৎকার কারো কানেই পৌঁছায় না। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় রক্ষা পায় নি চকরাজাপুর চরের জিল্লুর রহমান, আবুল কাশেম, বজলুর রহমান, আহম্মেদ আলী, রেজাউল করিম, বশু মন্ডল, বাচ্চু মিয়া, রিয়াজুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, মনির হোসেনেরসহ দুই শতাধিক বাড়ি-ঘর। গত আড়াই সপ্তার মধ্যে রাক্ষসী পদ্মা কেড়ে নিয়েছে মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই। সেগুলো হারিয়ে তারা এখন দিশাহারা। কিন্তু তারপরও ঈদে কোরবানি ও নতুন কাপড়ের জন্য অবুঝ সন্তানের কান্নাভেজা আবদার বাবা-মায়ের কষ্টকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। গত প্রায় আড়াই সপ্তার ব্যবধানে দুই শতাধিক পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। পদ্মার পলাশি ফতেপুর চরের কৃষক রাজু মিয়া ও রবিউল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিনে রাক্ষসী পদ্মা গিলেছে বিঘার পর বিঘা সবজি, ধান, পাট, আখসহ আবাদি জমি। ভাঙনের শিকার ওইসব মানুষদের সহযোগিতা তো দূরের কথা শান্তনা দেবার মতও কেউ নেই। বারবার সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে ভাঙন ঠেকানোর আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।  এদিকে অব্যাহত ভাঙন থেকে দুই শতাধিক পরিবার বাড়ি-ঘর সরানোর তাড়া। অন্যদিকে কোরবানি ও ছেলে- মেয়েদের নতুন জামা কাপড়ের আবদার। নতুন কাপড় তো দূরের কথা, ঈদের দিন এসব পরিবারের ভালো খাবারের নিশ্চয়তাও নেই। পূর্ব চকরাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শওকত জামান বলেন, ফসলী জমিসহ গাছ-পালা, বাড়ি-ঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে কোন রকম বেঁচে আছে দুই শতাধিক পরিবার। তারা এখন ঘরবাড়ি সরাতে ব্যস্ত ঈদ করবে কি করে। চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, ভাঙন কবলিত মানুষদের জন্য গত সপ্তায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, উপজেলা প্রশাসন ও আড়ানী পৌরসভার উদ্দ্যোগে আড়ে আট শতাধিক পরিবারকে ত্রাণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। গত বছর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছিল। এবার বরাদ্দ এখনো আসে নি। আসলে দেয়া হবে বলে তিনি জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম বলেন, পদ্মার চরের মানুষ এমনিতেই ছিন্নমূল। তারপর আবার বন্যায় ভাঙ্গনে বাড়ি-ঘর সরাতে ব্যস্ত, ঈদে কোরবানি ও নতুন কাপড় কিনবে কি করে। এছাড়া অতিশীঘ্রই ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি ও বাঁধ নির্মানের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানানো হেেয়ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ