বাঘায় আম গাছে গুটি আসছে || ভালো ফলনের প্রত্যাশা

আপডেট: মার্চ ২৬, ২০২০, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


বাঘায় আম গাছে গুটি-সোনার দেশ

রাজশাহীর বাঘায় আম গাছে থোকা থোকা মুকুলের মাঝে আসতে শুরু করছে গুটি। গুটি টিকিয়ে রাখতে বিশেষ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা।
এবার উপজেলায় ৮ হাজার ৩৬৮ হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে এবার ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন চাষিরা।
মনিগ্রামের আম চাষি সাইফুল ইসলাম বলেন, এরমধ্যে কয়েকবার বৃষ্টি হয়েছে। এতে কিছুটা শঙ্কাতেও ছিলাম। তবে এখন পর্যন্ত গাছে যে গুটি আছে তা টিকাতে পারলে ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।
আড়ানী গোচর গ্রামের কলিম উদ্দিন বলেন, আমার ১০ থেকে ১২টার মতো আমের গাছ আছে। এবার মুকুল ভালোই এসেছিলো। সব মুকুলতো আর থাকবে না। তবে এখন পর্যন্ত যে গুটি এসেছে তা ভালো আছে। পোকা যেন না লাগে সেজন্যে কিটনাশক প্রয়োগ করেছি। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখিন না হলে ভালো ফলন হবে।
বাগান মালিক জহুরুল ইসলাম, আকরাম আলী, শাওন আহম্মেদ বলেন, বাগানে প্রচুর আমের গুটি এসেছে, সঙ্গে দেখা দিয়েছে পোকার উপদ্রব। পোকার হাত থেকে গুটি বাঁচাতে কৃষি কর্মকর্তারা গাছে কীটনাশক ¯েপ্র করার পরামর্শ দিচ্ছেন। হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাগান মালিকরা গাছের গোড়ায় পানি দিয়ে গুটি রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জেলার মধ্যে এ উপজেলায় বেশি আম বাগান রয়েছে।
আড়ানী হামিদকুড়া গ্রামের আম চাষি নওশাদ আলী বলেন, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি হওয়াতে আমের জন্যে ভালো হয়েছে। আম গাছের পাতা থেকে ধুলা-ময়লাগুলো পরিষ্কার হয়েছে। এতে পাতার মাধ্যমে মুকুলগুলো বেশি পরিমাণে সূর্যালোক থেকে খাদ্য গ্রহণ করেছে। এতে ঝরে পড়া রোধ হবে। আকারেও বড় হবে। এছাড়া বৃষ্টির পর রোদ হওয়ায় ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ থেকে কিছুটা সুরক্ষিত হয়েছে। আর এখন বৃষ্টি হলে গুটির কোনো ক্ষতি হবে না। পরাগায়নের সময় বৃষ্টি হলে সমস্যা হতো।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন আশা করছি। গাছে যে মুকুল আছে তার ২০ থেকে ২৫ ভাগ মুকুল টিকবে। মুকুল এখন গুটি মটর দানার মতো হয়ে গেছে। এ সময় কৃষকদের কিটনাশক ও ছত্রাক নাশক স্প্রে করার জন্যে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ