বাঘায় আ’লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে আহত ৫ পুলিশের লাঠিচার্জ, সমাবেশ বন্ধ

আপডেট: এপ্রিল ১, ২০১৭, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাঘায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রপের সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। এ ধরনের ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে উভয়পক্ষের সমাবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে পৃথক পৃথক স্থানে জঙ্গিবিরোধী মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয় সাবেক ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের নেতৃবৃন্দ। এর মধ্যে উপজেলা সদরের তেঁতুলতলায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের ব্যানারে গণজমায়েতে অংশ নেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দীন লাভলু, বাঘা পৌরসভার মেয়র আক্কাছ আলী, সাবেক সংসদ রায়হানুল হক রায়হান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রোকনুজ্জামান রেন্টুসহ নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে বাঘা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে একই সময়ে পৃথক সমাবেশের ডাক দেন পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক শাহিনুর আলম। তার সাথে ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আজিজুল আলম, সাধারণ সম্পাদক বাবুল ইসলাম, বাঘা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ও আড়ানী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুজ্জামান শহীদ এবং উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্র লীগের নেতাকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাবেক ছাত্রনেতাদের ব্যানারে বিকেল সাড়ে তিনটায় যখন সমাবেশ শুরু হয়, তখন পৌর যুবলীগের সমাবেশ থেকে প্রায় শতাধিক যুবক জঙ্গিবিরোধী মিছিল নিয়ে বাঘা শাহদৌল্লা ডিগ্রি কলেজ মাঠে প্রবেশ করে।
এ সময় উভয়গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় যুবলীগ নেতা পিন্টু ও ছাত্রলীগ নেতা রাসেলসহ উভয় গ্রুপের পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়। এসময় ঘটনাস্থলে বাঘা থানা পুলিশ লাঠিচার্জ করে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলু বলেন, সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে আমি জঙ্গিবিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি। কিন্তু যুবলীগ নেতা শাহিনুর আলমের নেতৃত্বে পরিকল্পিকভাবে এ কর্মসূচিতে হামলা চালানো হয়েছে। আমি এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
অপরদিকে থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমাদের ছেলেরা জঙ্গিবিরোধী মিছিল নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় সাবেক ছাত্রলীগের নেতাদের ডাকা সমাবেশ থেকে ইটপাটকেল ছুড়লে উভয়পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এটা একটি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। আশা করছি, আমরা সবাই একসঙ্গে বসে বিষয়টির মীমাংসা করে ফেলবো।
এ ব্যাপারে বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী মাহমুদ জানান, একপক্ষের সমাবেশ চলা অবস্থায় অপরপক্ষের মিছিল আসায় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উভয়পক্ষের সমাবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ