বাঘায় ইউএনওর নির্দেশে ওএমএসের চাল পেল কার্ডধারীরা : ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট: July 7, 2020, 11:18 pm

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীর বাঘায় সরকারি গোডাউনের উত্তোলন করা ১০ টাকা কেজির ওএমএসের চাল কার্ডধারীদের না দিয়ে আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে অর্ধশতাধিক কার্ডধারী মৌখিক অভিযোগ করেন। অবশেষে নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে চাল পান ওই কার্ডধারীরা। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন।

বাঘায় ওএমএস’র চাল ক্রয় করতে আসা কার্ডধারীরা-সোনার দেশ

জানা যায়, বাঘা পৌরসভায় ১০ টাকা কেজির ওএমএসের ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে মেসার্স এসআরপি ট্রেডার্সকে। এই ডিলারের অধীনে ৮৪০ জন সুবিধাভোগি কার্ডধারী নির্ধারণ করে দেয়া হয়। তাদের চাল সরবরাহের জন্য চার কিস্তিতে ২৪ জুন পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৮০০ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করা হয়। সরকারি গোডাউন থেকে যে মাসে চাল উত্তোলন করবে, সেই মাসেই কার্ডধারীদের মধ্যে বিতরণ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ২৪ জুন উত্তোলন করা চাল

 

 

 

রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১০টা পর্যন্ত না পেয়ে বিক্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেয় অর্ধশতাধিক কার্ডধারী। অবশেষে তারা চাল না পেয়ে দল বেধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ওই গোডাউনের উত্তোলন করা চাল না দিয়ে বাজার থেকে ক্রয় করা চাল কার্ডধারীদের মধ্যে বিক্রি করা হয়।

 

এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। এই কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএম শামিম আহম্মেদ, সদস্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা।
বাঘা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুবিধাভোগী কার্ডধারী সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা সকাল থেকে মেসার্স এসআরপি ট্রেডার্সের সামনে চালের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। চাল না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়ে জানালে তার নির্দেশে চাল পেয়েছি। তবে সরকারি গোডাউনের উত্তোলন করা চাল না দিয়ে নারায়ণপুর বাজারের ব্যবসায়ী লালন উদ্দিনের দোকান থেকে ক্রয় করা চাল দিয়েছেন। তবে যে চাল দিয়েছে, সেটা নিম্নমানের।

এ বিষয়ে মেসার্স এসআরপি ট্রেডার্সের মালিক ও বাঘা পৌর যুবলীগের সভাপতি শাহিন আলম বলেন, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে কার্ডধারীদের চাল দিতে একটু দেরি হয়েছে। দেরি দেখে কিছু কার্ডধারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান। পরে তাদের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এমন অভিযোগ করা হয়েছে। আমি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চাল বিতরণ করছি।

 

দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার পলাশ আহম্মেদ বলেন, ২৪ জুন শেষ কিস্তির উত্তোলন করা চাল রোববার বিতরণ করা হবে মর্মে আমাকে জানানোর পর সকাল ১০ টার দিকে তার প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বন্ধ দেখে ফিরে আসি। পরে চাল বিতরণের বিষয়টি জেনে সেখানে গিয়ে সুন্দরভাবে বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সামসুন্নাহার বলেন, প্রতিমাসের চাল প্রতি মাসে দেয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে কার্ডধারীদের অসুবিধার কারণে পরে দিতে পারবে। কিন্ত বেশি বিলম্বে নয়। বাজার থেকে চাল কিনে বিক্রি করার বিষয়ে জানা নেই। তবে আমাকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএম শামিম আহম্মেদ বলেন, আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করি বাঘায়। মঙ্গলবার আমাকে তদন্ত কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে বলে দুপুরে মোবাইল ফোনে উপজেলা নির্বাহী অফিস থেকে জানানো হয়। তদন্ত করে যথাসময়ের মধ্যে রির্পোট জমা দিব।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, কার্ডধারী কিছু লোক আমার কাছে এসেছিল। সঙ্গে সঙ্গে ডিলারকে চাল দেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। পরে চাল বিতরণ করেছে। এ বিষয়ে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রির্পোট পেলে ব্যবস্থা নিব।