বাঘায় ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত বুটিক শ্রমিকরা

আপডেট: জুন ৮, ২০১৭, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বাঘায় ঈদকে সামনে রেখে কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বুটিক শ্রমিকরা-সোনার দেশ

আমানুল হক আমান, বাঘা
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকনারায়নপুর গ্রামে ঈদকে সামনে রেখে নকশী কাঁথা, বেড কভার, থ্রি-পিস, ফতুয়া, হ্যান্ডব্যাগ তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বুটিক শিল্পের শ্রমিকরা। এ কাজ করে স্বাবলম্বীও হচ্ছেন নারী শ্রমিকরা।
চকনারায়নপুর গ্রামে বুটিক কারখানায় কাজ করতে আসা জেসমিন খাতুন বলেন, একজন বুটিক সূচশিল্পী সপ্তাহে পারিশ্রমিক পান প্রায় দেড় হাজার টাকা। ফলে একজন শিল্পী মাসে আয় করতে পারেন প্রায় ছয় হাজার টাকা। তিনি বলেন, সংসারে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি এই কাজ করে যে টাকা পাওয়া যায় সেটা বাড়তি আয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে উপজেলার চকনারায়পুর গ্রামের ফাতেমা খাতুন লতা নামের এক নারী মায়ের দেয়া টাকা দিয়ে একটি শেলাই মেশিন কিনেন। এরপর ১৯৯৪ সালে বুটিক কুটির শিল্প করেন। সেখানে এলাকার দরিদ্র নারীরা কাজ করার জন্য এগিয়ে আসে। বর্তমানে এ কারখানায় প্রায় শতাধিক নারী কাজ করছেন। বর্তমানে কুটির শিল্পের নাম দেয়া হয়েছে আশার আলো মহিলা উন্নয়ন সংস্থা।
কলিগ্রামের লতা খাতুন (২৭) নামের এক শ্রমিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে বিয়ে হয়েছে। বিয়ের দুই বছরের মাথায় একটি ছেলে হয়। ছেলের বাবা নজরুল ইসলাম একজন দিন মুজুর ও মৌসুম ভিক্তিক খেজুর গাছ লাগানো শ্রমিক। আট মাসের সন্তান রেখে ভারতের কুচবিহার জেলার দিনহাটায় খেজুর গাছ লাগানোর কাজে যায়। সেখানে থেকে তাকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যায়। তারপর তাকে ২৬ মাসের জেল দিয়েছে ভারত আদালত। লতা খাতুন নিরুপায় হয়ে পড়ে। অবশেষে চকনারায়নপুর গ্রামের বুটিক কুটির শিল্পে কাজ নেই। বর্তমানে এখানে কাজ করে যতটুকু আয় হচ্ছে তা দিয়ে কোন রকম সংসার চলছে।
শ্রমিক মমতাজ বেগম বলেন, স্বামী পাগল ফলে ছেলে-মেয়ে নিয়ে অতি কষ্টে সংসার চলছিল। এসময় বুটিকের কাজ শিখে তাকে আর সংসার নিয়ে ভাবতে হয় না। মমতাজরে মতো অনেকে বুটিকের কাজ করে ভালোভাবে দিন কাটাতে পারছে। ঢাকার আড়ংসহ বিভিন্ন মার্কেটে এসব বিক্রি হচ্ছে। প্রত্যন্ত পল্লিতে এ ধরনের ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। ওই শিল্পের পরিধি বাড়াতে তিনি বিভিন্ন এনজিও’র সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
আশার আলো মহিলা উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক ফাতেমা খাতুন লতা বলেন, ছাত্রজীবন থেকে গ্রামের হতদরিদ্র নারীদের ভাগ্যোন্নয়নের স্বপ্ন দেখতেন তিনি। তাই ১৯৯০ সালে নারীদের নিয়ে কাজ শুরু করি। এলাকায় গরিব, দিনমজুর ও হতদরিদ্র মানুষের বসবাস। এলাকার গরিব মানুষের কর্মসংস্থানের কথা ভেবে এ কাজ শুরু করি। এখানকার হতদরিদ্র নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এপলিক শাড়ী, নকশী কাঁথা, বেড় কভার, থ্রি-পিস, লেডিস ফতুয়া, সর্ট কামিজ, কুশন কভার, ওয়ালম্যাট, রিং ব্যাগ, শপিং ব্যাগ, পার্টস-১, মোবাইল ব্যাগ, বটুয়া ব্যাগ, টিফিন ব্যাগ, টুনি ব্যাগ-১, কলেজ ব্যাগ তৈরির কাজ শুরু করেন। গৃহকর্মের পাশাপাশি নারীরা এ কাজে শ্রম দিয়ে অতিরিক্ত উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।
ইতোমধ্যে ফাতেমা খাতুন লতা নারী উন্নয়নে উদ্দ্যোগ গ্রহনের জন্য ওআইসিতে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তিনি ২০১১ সালে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ২০১৫ সালে সমাজ উন্নয়ন ও ২০১১ সালে কর্মসংস্থানের উপরে শ্রেষ্ঠ নারী নির্বাচিত হন। তিনি বর্তমানে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম বলেন, এলাকায় বুটিক তৈরির কারখানা গড়ে ওঠায় অনেক দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ওই শিল্পকে প্রসারিত করার উদ্যোগ নেয়া হলে প্রত্যন্ত গ্রামেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এই ধরনের ক্ষুদ্র শিল্প গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।