বাঘায় ঈদের আনন্দ বঞ্চিত তিন শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী

আপডেট: জুন ২৩, ২০১৭, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


রাজশাহীর বাঘায় তিন শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা দীর্ঘ একযুগ যাবত নিরলসভাবে পাঠদান করে এলেও কোনো প্রকার বেতন-ভাতা জোটে নি কপালে। ফলে তাদের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে।
উপজেলায় শিক্ষা বিস্তারে বেসরকারি পর্যায়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাসহ ২৪টি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে। এর মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠান এমওিভুক্ত হলেও বাকি ১৩টি আজও এমপিওভুক্ত হয় নি। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর তিন শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী মানবতের জীবনযাপন করছেন। প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা, ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, মহাবিদ্যালয়, বিএম কলেজ, আলিম মাদ্রাসা, ডিগ্রি কলেজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শর্তাবলি পূরণের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানের নামে জমি নেয়া, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি ও শিক্ষক নিয়োগসহ প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু কেবল টিউশনফির ওপর নির্ভরশীল এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা।
ইতোমধ্যেই এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিছু বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ফলে এলাকার শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী তাদের শেষ সম্বল বিক্রি করে ডোনেশন দিয়েছে লাখ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে বেতনের আশায় তারা নিঃস্ব হওয়ার পথে।
একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী বলেন, শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে মোটা অঙ্কের ডোনেশন দিয়ে চাকরি নিয়েছি। প্রায় একযুগ যাবত বেকার শ্রম দিচ্ছি, এখন পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয় নি। আদৌ হবে কি না তা-ও জানা নেই। এখন পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারিভাবে কোনো কিছু পাই নি। এমপিওভুক্তি না হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- বানিয়াপাড়া নি¤œমাধ্যমিক বিদ্যালয়, সুলতানপুর গোরস্থান দাখিল মাদ্রাসা, জোতকাদিরপুর দাখিল মাদ্রাসা, আড়ানী দাখিল মাদ্রাসা, খানপুর দাখিল মাদ্রাসা, পারসাওতা আলিম মাদ্রাসা (আলিম শাখা), মনিগ্রাম আদর্শ মহাবিদ্যালয়, ইসলামি একাডেমি উচ্চবিদ্যালয়, কারিগরি ও কৃষি কলেজ (বিএম ও কৃষি শাখা), আবদুর রহমান কারিগরি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, তেঁতুলিয়া-পীরগাছা বিএম কলেজে (ভোকেশনাল, এইচএসসি, সাধারণ শাখা), চকরপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, আড়ানী আলহাজ্ব এরশাদ আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজ (ডিগ্রি শাখা)।
সংশ্লি¬ষ্ট বোর্ড থেকে এসব প্রতিষ্ঠান আট থেকে ১০ বছর আগে স্বীকৃতি পেয়েছে। অর্থচ এমপিওভুক্ত হয় নি।
এর আগে গত ২০১০ সালে এক হাজার প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হলেও বাঘা উপজেলায় মাত্র একটি মহিলা কলেজের ডিগ্রি শাখা এমপিওভুক্ত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক নেতারা এমপিওভুক্তি না হওয়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ফলে এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা বিপাকে পড়েছে।
আড়ানী দাখিল মাদরাসার সুপার আবু হানিফ বলেন, বেতন না পেয়ে চাকরি করছি। অন্যের কাছে নিজেকে উপস্থাপন করা কতটা কষ্টকর তা বলা বাহুল্য।
উক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আড়ানী দাখিল মাদ্রাসা প্রায় চার যুগ ও চকরপাড়া দাখিল মাদ্রাসা আড়াই যুগেও এমপিওভুক্ত হয়নি। ইতোমধ্যে এই প্রতিষ্ঠানে কিছু শিক্ষক অবসরে গেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া কিছু শিক্ষক অবসরের অপেক্ষায় রয়েছে। তবুও এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে এই সকল শিক্ষকরা। ফলে ১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তিন শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী সামনে ঈদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ