বাঘায় এবার পেয়ারার পর ইতালিতে যাচ্ছে কুল

আপডেট: জানুয়ারি ১৯, ২০২৩, ১১:২২ অপরাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা :


রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় এবার পেয়ারার পর ইতালিতে যাচ্ছে কুল (বরই)। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার পাকুড়িয়ার সাদি এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে ১০০ কেজি কুল ইতালিতে প্রথম চালান হিসেবে পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার বাউসা গ্রামের শাহিন আলমের বাগান থেকে স্থানীয় সাদি এন্টারপ্রাইজ কুল সংগ্রহ করে ঢাকার রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আদাব ইন্টারন্যাশনালের কাছে প্রেরণ করেন। এই প্রতিষ্ঠান কৃষি সম্প্রসারণ

অধিদপ্তরের দেওয়া মোড়ক দিয়ে মোড়ানো বরই কার্গো ফ্লাইটে ইতালিতে পৌঁছবে। উপজেলার কৃষকদের নতুন উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে কুল চাষ হচ্ছে। ইতিমধ্যে সফলতা পেয়েছে চাষিরা। এ পদ্ধতির কারণে প্রতিটি গাছে প্রচুর পরিমানে বরই ধরেছে। এ কুল দেখে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা স্থানীয় সাদি এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে

ঢাকার রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আদাব ইন্টারন্যাশনালের সাথে যোগাযোগ করে প্রথম চালান হিসেবে ১০০ কেজি কুল প্রেরণ করেন। উপজেলার জমি অনেক উর্বর। গাছ একবার লাগালে ১২-১৫ বছর এক টানা কুল হয়।

প্রতিটি বাগান গার্ডলিং পদ্ধতিতে কুল চাষ করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিটি স্থানীয় কুল চাষিরা আবিষ্কার করেছেন। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে প্রতিটি গাছ থেকে ৬-৭ মণ হারে কুল সংগ্রহ হচ্ছে। কুল শুধু চাষিদের যে, লাভ হচ্ছে তা নয়, স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে। একজন শ্রমিক প্রতিদিন ৩৫০-৪৫০ টাকা আয় করছে। ডিসেম্বর থেকে গাছ থেকে কুল পাড়া শুরু হয়েছে।

সাদি এন্টারপ্রাইজের মালিক শফিকুল ইসলাম ছানা বলেন,আমার পেয়ারা ৫০ বিঘা ও কুল ৫০ বিঘা জমিতে রয়েছে। কন্টাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি উপযোগী কুল উৎপাদিত হচ্ছে। এই কুল প্রথম চালান হিসেবে ইতালিতে পাঠানো হয়েছে। তবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা দিচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সফিউল্লা সুলতান বলেন, উপজেলার চাষিরা কন্টাক্ট ফার্মিংয়ের মাধ্যমে আম চাষ করে বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। ঢাকার রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আদাব ইন্টারন্যাশনালে নিকট আধা মেট্রিক টন পেয়ারার পর ১০০ কেজি কুল পাঠানো হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া মোড়ক দিয়ে মোড়ানো হচ্ছে কুল। এরপর কার্গো ফ্লাইটে বরই ইতালিতে পৌঁছবে। উপজেলায় ১৫০ হেক্টর বরই ও ৩০৪ হেক্টর পেয়ারা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে পদ্মার চরে চাষ হয়েছে ৭০ শতাংশ। তবে বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি আর্থিকভাবে বরই চাষেও আগ্রহী হচ্ছেন চাষিরা। চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরে প্রতি হেক্টরে ৪৫ টন কুল উৎপাদন হচ্ছে। শুধু পদ্মার চরে ১২ হাজার টন কুল উৎপাদন হবে।

উল্লেখ্য, রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সহযোগিতায় কয়েব বছর থেকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে আম পাঠানো হচ্ছে। গত মৌসুমে ৩০ মেট্রিকটন আম পাঠানো হয়েছিল। একইভাবে ১৬ জানুয়ারী আধা মেট্রিকটন পেয়ারা ইতালিতে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার কুলও বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে।