বাঘায় কালবৈশাখী ঝড়ে আমের ১ কোটি টাকা ক্ষতি

আপডেট: এপ্রিল ২৩, ২০২১, ৯:২১ অপরাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা:


রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় চলতি মৌসুমে অন্য বছরের তুলনায় আমের উৎপাদন কিছুটা কম। তার উপর কালবৈশাখীর ঝড়ে এই অঞ্চলের প্রধান অর্থকারি ফসল আমের ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে যারা বাগান চুক্তি অগ্রমি আম ক্রয় করেছেন তারা চরম হতাশায় পড়েছেন।
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, বুধবার (২১ এপ্রিল) যে কালবৈশাখী ঝড় হয়েছে। সেই ঝড়ে ১ শতাংশ আম গাছ থেকে ঝরে পড়েছে। এতে করে ঝরে পড়া আমটি যদি পরিপক্ক অবস্থায় বিক্রি করা হতো। তাহলে আম চাষীরা সম্ভব্য মূল্য অনুযায়ী ১ কোটি টাকায় বিক্রি করতে পারতো। এতে করে সেই হিসাব মোতাবেক বাঘায় আমের ১ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চাষীরা।
তিনি আরও বলেন, আম এক বছর ভাল আম হলে, অন্য বছর কম হয়। তারপরও পরপর দুই বছর প্রচুর পরিমান আম হওয়ায় অন্য বছরের তুলনায় এবার কম হয়েছে। তবে এরপর দূর্যোগ যদি না আসে তাহলে ক্ষতি অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পারবে চাষীরা।
জানা যায়, বাঘা উপজেলা ৮ হাজার ৩৬৮ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। চলতি মৌসুমে বাগানে উৎপাদন ধরা হয়েছে হেক্টর প্রতি ৬-৭ মেট্রিক টন। তারপর আবার বুধবার রাত সাড়ে ৭ টার দিকে কালবৈশাখী তান্ডবে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই আম প্রতিকেজি ২-৩ টাকা দরে ক্রয় করে ট্রাক যোগে ঢকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
রাজশাহীকে আমের জন্য বিক্ষাত বলা হলেও মূলত: বাঘা ও চারঘাট উপজেলাকে আম প্রধান অঞ্চল বলা হয়। উপজেলায় খাদ্য শস্যের পাশাপাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে বর্তমানে আমই প্রধান। এই আম রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাঘার আমের সু-খ্যাতি সবচেয়ে বেশি।
এ বিষয়ে উপজেলার মনিগ্রামের আম চাষি জিল্লুর রহমান বলেন, লিজ নিয়ে যে আমের চাষ করেছি। এতে যে পরিমান আম পড়েছে তাতে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমার বাগানে প্রায় ৫ শতাংশের মতো আম ঝড়ে গেছে। তবে এই আম প্রতিকেজি ২-৩ টাকা দরে ক্রয় করে ট্রাক যোগে ঢকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবসায়ীরা নিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ