বাঘায় কুকুরের কামড়ে আহত ১৫, ভ্যাকসিনের পরিবর্তে চলছে কবিরাজি চিকিৎসা

আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০১৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী এলাকায় পাগলা কুকুরের কামড়ে এক সপ্তায় আহত হয়েছে ১৫ জন মানুষ আহত হয়েছে। এছাড়া কিছু গরু-ছাগলও ওই কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছে। আহতরা ভ্যাকসিন কিনতে না পেরে কবিরাজি চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আড়ানী নুরনগর, বেড়রবাড়ি, ঝিনা গ্রামে দেড় সপ্তার ব্যবধানে পাগলা কুকুরে কামড় দিয়েছে ২০ জন ব্যক্তিকে। এছাড়া একই এলাকার কামড়ে গরু-ছাগল আহত হয়েছে। কুকুরের কামড়ে আহত ব্যক্তিরা অধিকাংশ হতদরিদ্র। তারা দিন আনে দিন খায়। তারা ভ্যাকসিন কেনতে না পেরে কবিরাজি চিকিৎসা নিচ্ছেন।
আহত ব্যক্তিরা হলেন, নুরনগর গ্রামের সাইদুল ইসলামের স্ত্রী সাহিদা বেগম, খাইরুল ইসলামের স্ত্রী রুমা বেগম, শাহিন আলীর স্ত্রী বেলি বেগম, ফিরোজ আলীর স্ত্রী সাগরি বেগম, মচেন আলীর ছেলে শরিফ হোসেন, আবদুল হান্নান আলীর স্ত্রী তহমিনা বেগম, রাজা হোসেনের ছেলে জালাল হোসেন, নইম উদ্দিনের নাতী পাখি খাতুন, সাইদুল ইসলামের স্ত্রী হিরা বেগম, আসমত আলীর ছেলে মোস্তফা হোসেন, ঝিনা গ্রামের মামুন সরকার, বেড়েরবাড়ি গ্রামের মসলেম উদ্দিনের ছেলে জলিল উদ্দিন ও নুরনগর গ্রামের সালাম উদ্দিন। এছাড়া আড়ানী পৌর বাজার পাহারাদার রমজান আলী ও কাবির উদ্দিন কুকুরে কামড়ে আহত হয়েছে। ওই এলাকার বেলাল হোসেনের একটি গরু ও সাইদুল ইসলামের একটি ছাগল কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে নুরনগর গ্রামে কুকুরের কামড়ে আহত সালাম উদ্দিন বলেন, আমি গরীব মানুষ। ভ্যাকসিন কিনতে না পেরে কবিরাজি চিকিৎসা নিচ্ছি। আরেকজন তহমনিা বেগম বলেন, তিন দিন আগে আমাকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। দিন আনি দিন খায়। সংসার চালানো দায়। টাকার অভাবে এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন কিনতে পারি নি।
আড়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক রফিকুল ইসলাম বলেন, কিছু মানুষ ও গরু-ছাগলকে কুকুরে কামড় দিয়েছে শুনেছি। এর মধ্যে কেউ কেউ আমার কাছে থেকে প্রত্যয়নপত্র নিয়েছে। তবে ভ্যাকসিন শরীরে পুস করেছে কিনা জানি না। তবে কুকুর যাদের কামড় দিয়েছে তারা সবাই হতদরিদ্র। এছাড়া আমার পরিষদে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রত্যয়নপত্র দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, এক মাসের মধ্যে পাগলা কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন না দিলে সে পাড়ল হয়ে মানুষকে কামড়াতে শুরু করবে। এর কিছুদিন পর সে মারা যাবে। এর প্রতিকার করতে হলে এলাকায় কুকুর নিধন করতে হবে।