বাঘায় খামারে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় অর্ধশতাধিক মুরগির মৃত্যু

আপডেট: জুন ১৪, ২০২২, ৯:০৯ অপরাহ্ণ

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:


রাজশাহীর বাঘায় একটি খামারে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় মুরগীর মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুতের বিল পরিশোধ না করায় সোমবার (১৩ জুন) সকাল ১১টায় মুরগীর খামারে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এই ঘটনায় অর্ধশতাধিক মুরগির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নাটোর পল্লী বিদুৎ সমিতি-২ এর বাঘা জোনাল অফিসের একটি দল উপজেলার ছাতারি গ্রামের আরাফাত পোল্টি ফার্মে অভিযান পরিচালনা করেন। দুই মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়ার কারণে খামারের সংযোগ বিছিন্ন করে দেওয়া হয়।

এ সময় পল্লী বিদ্যুতের অভিযান দলকে অনেক অনুরোধ, আর্তনাদ ও আকুতি-মিনতি করে ১ ঘন্টা সময় চেয়েছিলেন খামার মালিক। প্রয়োজনে তাৎক্ষনিক টাকাও পরিশোধ করতে চেয়েছিলেন। জরিমানাসহ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের শেষ সময় ছিল ১৩ জুন। এরপরেও তার কথায় কনো কর্ণপাত করা হয়নি।

রাখা হয়নি তার আকুল আবেদন। বিছিন্ন করা হয়েছে সংযোগ। জৈষ্ঠের তীব্র ভ্যাপসা গরমে সংযোগ বিচ্ছিন্নের কয়েক ঘন্টা পর স্টোক করে মারা যায় খামারের অর্ধশতাধিক ডিম উৎপাদনকারী মুরগি। এছাড়া আরও শতাধিক মুরগি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েন খামার মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন।

জাহাঙ্গীর আলম ধার দেনা করে ৭ মাস আগে লেয়ার মুরগির খামার দেন। এ খামারে ১ হাজার ২০০ মুরগীর বাচ্ছা নিয়ে পরিচর্চা শুরু করেন। মুরগিগুলো কিছুদিন থেকে ডিম দেওয়া শুরু করেছে।

এ বিষয়ে খামার মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমানে যা আয় হয়, মুরগির খাবার ও ঔষধে সব ফুরিয়ে যায়। এরমধ্যে অনেক কষ্ট করে বিদ্যুতের বিল পরিশোধের জন্য টাকা যোগার করেছিলাম। বিদ্যুৎ বিল দিতে অফিসে যাওয়ার আগে তারা খামারে এসে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

জরিমানাসহ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ এবং নতুন সংযোগ দেয়া হয় বিকেল ৫ টার দিকে। এর মধ্যেই খামারের অর্ধশতাধিক মুরগি মারা যায় । প্রতিনিয়ত নানা রকম ঝুকি মোকাবেলা করে খামার পরিচালনা করছি। রাত-দিন কষ্ট ও পরিশ্রম করে খামার পরিচালনা করি। মানুষের জন্য আমিষের চাহিদা পূরন করি। আমরা কি এতটুকু মানবিক অধিকার পেতে পারিনা।

এ বিষয়ে নাটোর পল্লী বিদুৎ সমিতি-২ এর বাঘা জোনাল অফিসের ডিজিএম সুবীর কুমার দত্ত বলেন, তার ৩ মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ৩ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। তিনি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৫/৭ ঘন্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকেনা। অথচ ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে এতো মুরগি মারা গেল, এটা বিশ্বাস করা কঠিন বলে মনে করেন তিনি। অন্য কোন সমস্যার কারণে মুরগি মারা গেতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ