বাঘায় গাছ তলায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২১, ৯:০৯ অপরাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা:


রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চরে কাদা পানি মাড়িয়ে স্কুলে আসা শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে গাছ তলায়। মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পদ্মার চরের লক্ষীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গাছতলায় মাটিতে মাদুর বিছিয়ে ক্লাস করছে।

জানা গেছে, গত বছর বিদ্যালয়টি পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। তারপর অন্যস্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। বিদ্যালয়ের ৩ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ও আরেকটি এক কক্ষ বিশিষ্ট টিনের ঘর। মেঝে কাঁচা। চলতি বছরের পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৬৫ জন। পানি জমে থাকায় উচুভিটার উপর গাছের নিচে মাদুর বিছিয়ে ক্লাস শুরু করেছে ছাত্র-ছাত্রীরা। বিদ্যালয়ের চারিদিকে পানি। শিক্ষার্থীদের পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে লক্ষীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবর রহমান বলেন, উপজেলার পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে আমার বিদ্যালয়টি নিয়ে খুবই কষ্টে আছি। ভাঙনের পর শুরু হলো করোনা। তারপর আবার পদ্মার পানি বৃদ্ধি। পানি কমে গেলেও কাদায় পরিপূর্ণ শ্রেণি কক্ষ। তাই দীর্ঘদিন পরে স্কুল খুললেও শ্রেণি কক্ষে ক্লাস নেয়া সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়ে গাছ তলায় ক্লাস নিতে হয়েছে।

চকরাজাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আরেক প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান বলেন, পদ্মার পানি বৃদ্ধির পর স্কুল খোলার একদিন আগে পানি নেমে যায়। তারপর জমে থাকা কাদা পানি সরিয়ে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৮২ জন।
বাঘা উপজেলার সহকারি শিক্ষা অফিসার দিলরুবা ইয়াসমিন বলেন, পদ্মার চরে ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে চৌমাদিয়া ও ফতেপুর পলাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারিদিকে পানি। তাই কোমলমতি শিশুদের ঝুঁকি না নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে বলা হয়েছে।

লক্ষীনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে কাদার কারণে মাদুর বিছিয়ে উঁচু জায়গায় ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর স্কুল খোলার আনন্দে পদ্মার চরের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির ছিল ৮২ ভাগ।