বাঘায় ঘরবন্দি শিশুদের সময় কাটছে বই পড়ে, কার্টুন দেখে

আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০২০, ২:১৪ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


স্কুলের বন্ধের ১৭ দিন। বইপড়া আর কার্টুন দেখে সময় কাটছে রিফা তাসফিয়া তাহসিন অবণী (১৪) ও উম্মে ফাতেমা তাহসিন অঙ্কিতা (৬)- দুই বোনের। করোনাভাইরাসের কারণে স্কুল বন্ধ হওয়ায় তারা আজ ঘরবন্দি। তাই চার দেয়ালের মধ্যে বেশি সময় কার্টুন দেখেই কাটাচ্ছে।
রাজশাহী বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌর এলাকার এক বাড়িতে এক বোনকে বই পড়তে, অপরজনকে কার্টুন দেখতে দেখা যায়। দুই বোনের মা শিরিন সুলতানা বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে সন্তানদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ঘরের মধ্যে রাখতে হচ্ছে। বাড়িতে চারটি রুম। রুমগুলো মধ্যে খেলা করছে তারা। কোনো সময় আমিও তাদের সঙ্গ দিচ্ছি। টিভি দেখা ও পড়া শোনার মধ্য দিয়ে তাদের সময় কাটছে।
জানা যায়, স্কুল-কলেজ বন্ধ, তবুও ঘরবন্দি বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না অনেক ছেলে-মেয়ে। তাদের আবদার স্কুল-কলেজ ছুটি- নানা-দাদা বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া। এমন পরিস্থিতিতে সন্তানদের নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন অনেক অভিভাবক। কোনো মতে সন্তানদের বুঝিয়ে রাখছেন তারা। করোনা ভাইরাসের কারণে শুধু শিক্ষার্থী নয়, ঘরবন্দি হয়েছেন সব বয়সের মানুষ। অপ্রয়োজনে কেউ বাড়ির বাইরে বের হতে পারছেন না। আর কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বাইরে কোনো কাজ নেই। তাই পুরোপুরি তাদের বন্দিজীবন। এমন অবস্থায় ছেলে-মেয়ের সঙ্গে ঘরের মধ্যে খেলাধূলা ও কার্টুন দেখছেন অনেক অভিভাবকও।
আড়ানী পৌর আ’লীগের সভাপতি শহীদুজ্জামান শাহীদ বলেন, ‘ শিশুদের আবদারের শেষ নেয়। সারা দিন টিভি দেখছে। স্কুল ছুটি- বেড়াতে নিয়ে চলো। যেহেতু বেড়াতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব না- তাই টিভি দেখতে বলেছি। তিনি আরো বলেন, সংঙ্কট সময় কাটলেই তারা মুক্ত। তাদের বুঝিয়ে বাড়িতে রাখতে হচ্ছে। কখনো কখনো ভয় দেখাতে হচ্ছে, বাইরে বের হলেই পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে। তখন তারা বাড়িতে চুপচাপ থাকছে। হয় বই পড়ছে, না হলে টিভি দেখছে।
আড়ানী সরকারি মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অবণী জানায়, ১৭ দিন হলো স্কুল বন্ধ। বাবা-মা বাইরে খেলতেও দেয় না। শুধু বাড়িতে থাকো। বাইরে যাওয়া যাবে না। বই পড়ো, না হলে টিভি দেখো। সারাক্ষণ এমন বকুনির মধ্যে থাকতে হচ্ছে। তবে পড়াশোনার বিষয়ে দিনে একটি করে বিটিভিতে সকাল ১১টা ১০ থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ক্লাস হচ্ছে। এ সময়টুকু ক্লাস করছি। এই ক্লাস সেরে টিভিতে ‘মটুপাতলু, ঠাকুর মা ঝুলি, নাট বল্টুর কাণ্ড-কারখানা, নিস্ক, গোপাল ভাড়, চাচ ভাতিজা, শিবা’ কার্টুন দেখছি। পড়াশোনার বিষয়ে সমস্যা হলে মেধা নামের বান্ধবীর কাছে মোবাইল ফোনে জেনে নিচ্ছি। তার সমস্যা হলে আমাকেও সে ফোন দিচ্ছে। আর ছোট বোন অঙ্কিতার সঙ্গে খেলা আর দুষ্টামিতে সময় কাটছে।
আড়ানী সরকারি মনোমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয়কুমার দাস বলেন, স্কুল বন্ধ। অভিভাবকদের বাড়িতে সন্তানদের পড়াতে হবে। তা না হলে পরীক্ষার সময় চাপে পড়তে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে কার্টুনাসক্ত না হয়ে পড়ে সন্তান। তাহলে পড়াশোনায় মনোযোগ হারিয়ে যাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ