বাঘায় জমে উঠতে শুরু করেছে কাঁঠাল বেচাকেনা

আপডেট: জুলাই ২, ২০১৭, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


বাঘা-খয়েরহাটে রাস্তার দুইপাশে গাছে গাছে ঝুলছে কাঁঠাল -সোনার দেশ

রাজশাহীর বাঘায় মৌসুমি ফল কাঁঠাল গাছে গাছে ঝুলছে। কাঁঠাল বাজারে ইতোমধ্যে উঠতেও শরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে বলে চাষিরা জানান। কাঁঠালকে ঘিরে মানুষ কর্মমুখর হয়ে উঠেছে। কাঁঠাল নিয়ে উপজেলার মানুষ প্রায় তিন মাস ব্যস্ত থাকবেন।
আড়ানীর মকবুল হোসেন নামের এক পাইকারি ক্রেতা বলেন, প্রতিদিন অল্প কাঁঠাল কেনাবেচা শরু হয়েছে। যা আমদানি হচ্ছে এগুলো কিনে নোয়াখালী, পটুয়াখালী, ভৈরব, বরিশাল এলাকায় চালান করি। অন্য এলাকার চেয়ে দাম তুলনামুলক কম। সপ্তা খানেক থেকে এখানে কাঁঠাল কিনছি। এলাকায় আমের জন্যেও বিখ্যাত। আম প্রায় শেষ তাই কাঁঠালের ব্যবসা শুরু করেছি। কাঁঠালে আয়ও ভালো হচ্ছে।
আড়ানীর অপর কাঁঠাল ব্যবসায়ী সেলিম আহম্মেদ নামের পাইকারি ক্রেতা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ও বাজার থেকে কাঁঠাল কিনে ট্রাক যোগে মোকামে পাঠাতে শুরু করেছি। আমের চেয়ে কাঁঠালের ক্যায়ারিং খরচ বেশি। ব্যবসায়ী মুবিনুল ইসলাম ও আসাদুল হক নামের ব্যবসায়ী একই কথা বলেন।
আড়ানীর স্থানীয় ফঁড়িয়ার আনজারুল ইসলাম বলেন, এলাকায় প্রচুর কাঠাল আছে। কিন্তু চাহিদাও আছে। তাই গতবারের মতো এবার বেচাকেনা করতে পারবো কিনা জানি না।
রামচন্দ্রপুর গ্রামের জান্টু হোসেন জানান, ১৫টি কাঁঠালের গাছ আছে। তিনি আশা করছেন প্রথম চালানে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করবে। প্রতিদিন কাঁঠালের খুরচা ও পাইকারি বাজার বসছে উপজেলার আড়ানী বাজারের তালতলায়। এখানে কাঁঠাল আমদানি শরু হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঁঠাল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
সেকেন্দার রহমান নামের কাঁঠাল চাষি জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর কাঁঠালের দাম আশা করছি ভালো পাব। বাইরে থেকে ব্যাপারি এখনো আসতে শরু করে নি। তারা আসলে দাম ভালো পাব। তার ১৫ কাঠা জমির উপর ১৭টি কাঁঠাল গাছ আছে।
এ বিষয়ে উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম জানান, অন্য বছরের চেয়ে এবার বৃষ্টি সময়মতো হওয়ায় কাঁঠালের চাষ ভালো হয়েছে। উপজেলায় ৫২ হেক্টর জমিতে কাঁঠাল বাগান রয়েছে। বাগানগুলোতে উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রায় ৪শ মেট্রিক টন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ