বাঘায় টানা চার ঘণ্টার বৃষ্টিতে মানুষের দুর্ভোগ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাঘায় টানা চার ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাস্তায় চলাচলকারী মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। উপজেলা প্রধান প্রধান নিচু সড়ক, পুকুর, অধিকাংশ বাড়ি-ঘর, উপজেলা প্রশাসনিক কার্যালয়, থানা টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। এই বৃষ্টিতে হাঁটু পানি জমেছে বাঘা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও বাড়িতে। এছাড়া কিছু কিছু রাস্তায় জাল পেতে মাছ শিকার করছে এলাকার লোকজন। গতকাল সোমবার ভোর ৪টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চার ঘণ্টা বৃষ্টিতে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বাঘা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গাওপাড়া গ্রামের কলেজের প্রভাষক শাহিন মন্ডল জানান, পদ্মা নদী থেকে প্রতিদিন শতাধিক বালুবাহী ট্রাক ছাড়াও বিভিন্ন ভারি যান চলাচল করায় রাস্তাগুলোতে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে ট্রাক ও মাল বোঝাই ভ্যান আটকে প্রায়ই যানজোটের সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া টানা চার ঘণ্টার ভারি বৃষ্টির ফলে রাস্তায় পানি জমে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল সোমবার সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, বাঘা বাজার থেকে মশিদপুর সড়ক ঘাট, বাসস্ট্যান্ড থেকে নারায়ণপুর বাজার, গাওপাড়া থেকে নারায়ণপুর বাজার, আহমদপুর মোড় থেকে বারখাদিয়া মোড়, বাঘা উচ্চ বিদ্যালয় গেট থেকে নতুন বাসস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে মাজার গেট, উপজেলা চত্বর থেকে থানা গেট, বানিয়াপাড়া মোড় থেকে বানিয়াপাড়া নি¤্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাঘা মশিদপুর রাস্তার রয়েজের বাড়ির কাছ থেকে জোতশায়েস্তা মোড়, বাঘা জিরো পয়েন্ট থেকে শহীদের বাড়ির মোড়, সাবরেজিস্টার অফিসের পাশ থেকে আমজাদ চেয়ারম্যানের বাড়ি, গাওপাড়া রেজাউলের বাড়ির মোড় থেকে মশিদপুর মাদ্রাসা, নারায়নপুর পালপাড়া থেকে চকছাতারী জামে মসজিদ, বানিয়াপাড়া আহমদের বাড়ি থেকে জলিল হাজির বাড়ি পর্যন্ত, পৌর মোড় থেকে নতুনপাড়া, উৎসব পার্ক পর্যন্ত রাস্তাগুলোর বেহাল অবস্থা। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থার অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।
বাঘা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও উত্তর মিলিকবাঘা গ্রামের মহিদুল ইসলাম বলেন, হাঁটু পানির মধ্যে দিয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে মানুষ। তবে বর্ষা মৌসুমের আগে রাস্তাগুলো সংস্কার বা মেরামত করা হয় নি। ফলে রাস্তার গর্তগুলো পানিতে ভরাট হয়ে যাওয়ায় মাঝে মধ্যেই ট্রাক ও মাল বোঝাই ভ্যান আটকে রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কলেজ, স্কুল, মদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকদের কষ্ট করে ঝুঁকি নিয়ে যতায়াত করতে হচ্ছে।
এদিকে গতকালে টানা চার ঘন্টার বৃষ্টিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আজিজুল আলমের ২১টি, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুলের ১১টি, বাঘা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল কুদ্দসের ্আটটি, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমানের ১০টি পুকুরসহ প্রায় দুই শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বলে দাবি করেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ সাবিনা বেগম বলেন, গতকাল সোমবার ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে মাস কলাই, রুপা আমন, সবজিসহ বিভিন্ন ফসলী জমিতে পানি প্রবেশ করেছে। এই পানি দুই এক দিনের মধ্যে বের না হলে ব্যাপক ক্ষতি হবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, ভারী বৃষ্টি হয়েছে। তবে মৎস্য চাষিরা যে দাবি করছে, সে তুলনায় কম। তবে এক ঘন্টা থেকে দুই ঘন্টার মধ্যে পানি নেমে গিয়ে পুকুর স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
বাঘা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এবং জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমান শফি বলেন, পানি নিষ্কাশনের সঠিক পরিকল্পনার অভাবে রাস্তায় পানি জমেছে। সঠিকভাবে পরিকল্পনা করে ড্রেন নির্মাণ করলে মানুষের দূর্ভোগ হতো না। তবে পানি নিস্কাশন ও রাস্তাগুলো সংস্কারের জন্য স্থানীয় এলজিইডি কার্যালয়ে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির পরপর এলাকা পরিদর্শন করেছি। এই বৃষ্টিতে উপজেলা পরিষদের পুকুরসহ বেশ কিছু পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। তবে এলাকায় ক্ষতির পরিমান নির্ণয় করা হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ