বাঘায় ঠিকাদারকে নিম্নমানের রাস্তার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রকৌশলীকে পেটালেন আ’লীগ নেতার ছেলে

আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০২০, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাঘায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ পেয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী। এ সময় ঠিকাদারের ছেলে ওই উপজেলা প্রকৌশলীকে মারপিট করে লঞ্ছিত করে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অর্ধবেলা কলম বিরতি রাখেন। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রোববার বেলা ১২টার দিকে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে।
জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরে বাঘা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) অফিস থেকে হাবাসপুর এলাকায় ৩৮ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫০০ মিটার সাব-বেইজ রাস্তা নির্মাণ কাজের বরাদ্দ পান রাজশাহীর মমো এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে এই কাজটি ক্রয় করে নির্মাণ কাজ শুরু করেন স্থানীয় ঠিকাদার ও বাঘা পৌর আ’লীগের সভাপতি আবদুল কুদ্দুস সরকার। এ কাজটি দেখভাল করেন ঠিকাদারের বড় ছেলে সেলিম আহাম্মেদ।
এ রাস্তাটি নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল রোববার সকালে উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফরিদ আহাম্মেদ ঘটনাস্থলে তদন্তে গিয়ে নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে তা প্রমান পেয়ে সংশ্লিষ্টদের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে অফিসে চলে আসেন। পরে স্থানীয় ঠিকাদার ও বাঘা পৌর আ’লীগের সভাপতি আবদুল কুদ্দুস সরকারের বড় ছেলে সেলিম আহাম্মেদ ওই প্রকৌশলীকে চড়-থাপ্পড় মেরে এবং অফিস কক্ষের মধ্যে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।
উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশালী ফরিদ আহাম্মেদ বলেন, সেলিম আহাম্মেদ অফিসে এসে কাজ বন্ধ রাখার কারণ জানতে চেয়ে অকথ্য ভাষায় কথাবার্তা বলে এবং আমাকে মারপিট করে ধাক্কা দিয়ে চেয়ার থেকে ফেলে দেয়। এ সময় অন্যান্য সহকর্মীরা এগিয়ে এসে আমাকে রক্ষা করে।
এ বিষয়ে সেলিম আহাম্মেদ বলেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে মারপিট করা হয়নি। কেন কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, তা জানতে চেয়েছিলাম। তবে তাকে রাগ করে একটা ধাক্কা দিয়েছিলাম।
বাঘা উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার ফৌজদার বলেন, ঘটনাটি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তারাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।