বাঘায় তিন শতাধিক বাড়ি পদ্মাগর্ভে || হুমকিতে চকরাজাপুর উচ্চবিদ্যালয়

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৭, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরের মধ্যে তিন সপ্তার ব্যবধানে ভাঙনে তিন শতাধিক বাড়ি পদ্মা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মধ্যে রয়েছে চকরাজাপুর উচ্চবিদ্যালয়। যে কোন সময় পদ্মা গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে বিদ্যালয়টির। ফলে স্কুলের সাড়ে ছয় শতাধিক শিক্ষর্থীর লেখাপড়ার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার পদ্মার চরের মধ্যে ভাঙ্গন থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব ৬০ মিটার। এই বিদ্যালয় যে কোন সময় পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আশঙ্কা করছেন। তবে চকরাজাপুর এলাকা গত তিন সপ্তার ব্যবধানে প্রায় তিন শতাধিক পরিবারের বাড়ি-ঘর পদ্মা গর্ভে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। তারা বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বাঘার পদ্মার চরে মধ্যে ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে চৌমাদিয়া, আতারপাড়া, চকরাজাপুর, পলাশি ফতেপুর, ফতেপুর পলাশি, লক্ষ্মীনগর, চকরাজাপুর, পশ্চিম চরকালিদাসখালী, পূর্ব চকরাজাপুর এগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়। চকরাজাপুর ও পলাশি ফতেপুর এই দুটি উচ্চবিদ্যালয়। এরমধ্যে চকরাজাপুর উচ্চবিদ্যালয়ে ৬৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ভাঙনের ফলে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রয়েছে চরম আতঙ্কে।
ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, পদ্মা ভাঙতে ভাঙতে এখন বিদ্যালয় থেকে মাত্র ৬০ মিটার দূরে অবস্থান করছে পদ্মা। আজ স্কুল ভালো দেখে গেলাম, কাল এসে দেখতে হবে স্কুল নেই। ফলে আমরা চিন্তায় আছি।
চকরাাজাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুস সাত্তার বলেন, পদ্মার পাড় ভাঙতে ভাঙতে বিদ্যালয়ের কাছে এসে গেছে। ফলে ছেলে-মেয়েদের ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি আজিযুল আযম বলেন, নদী ভাঙনের বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবে চরের মানুষ গরু-ছাগল নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে। তিনি আরো বলেন, বন্যায় পূর্ব চকরাজাপুর ও চৌমাদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, আতারপাড়া বিদ্যালয় হুমকির মধ্যে রয়েছে। পদ্মার ভাঙন প্রতিষ্ঠান তিনটি থেকে মাত্র এক-দেড়শ মিটার দুরে রয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান আরা বলেন, প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে প্রথামকি ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদফতরকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙন ও বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে স্কুল সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ