বাঘায় দম ফেলার সময় নেই প্রতিমা শিল্পীদের

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৭, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আর ক’দিন পর শারদীয় দূর্গোৎসব। প্রতিমা তৈরিতে শিল্পীরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এখন দম ফেলারও সময় নেই তাঁদের। তোরণ নির্মাণ ও মন্ডপ তৈরি ও নানা রঙে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পূজা উদ্যাপন কমিটি। পূজা চলাকালে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী তৎপর রয়েছে। ইতিমধ্যে পূজামন্ডপগুলোতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের নজরদারি।
বাঘা উপজেলা পূজা উদয্যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রাম গোপাল শাহা বলেন, উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় এবছর ৪২টি মন্ডপে দুর্গাপূজা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার চারটি পূজামন্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। আড়ানী পৌর বাজারের কালিবাড়ি পূজামন্ডপে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন শিল্পীরা। এ কাজে ব্যস্ত শিল্পীারা তাদের তুলির আঁচড়ে প্রতিমাগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠবে আর ক’দিনের মধ্যে। আর তা এখন থেকে দেখতে ভিড় করেছে এলাকার শিশুরা।
প্রতিমা শিল্পী নিমাই¬ চন্দ্র দাস বলেন, প্রায় ৪৩ বছর ধরে বিভিন্ন এলাকার মন্দিরের পূজা উদযাপন কমিটির চাহিদা মতো প্রতিমা তৈরি করি। প্রতিমা তৈরির কাজ পুরোদমে চলছে। হাতে সময় কম থাকায় এখন আর দম ফেলার সময় নেই। দুর্গা, কার্তিক, সরস্বতী, লক্ষী ও গণেশের প্রতিমায় শেষ তুলির আঁচড় লাগলে সেগুলো জীবন্ত হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, শুধু টাকার জন্য নয়, প্রতি বছর প্রতিমা তৈরি করার নেশা থেকে তিনি এ কাজ করেন। রাত-দিন প্ররিশ্রম করে যখন কাজ শেষ হয়, তখন প্রতিমার দিকে তাকালেই ভালো লাগে। তিনি আরও বলেন, এক মাস পূর্বে দূর্গাপূজার প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আমরা মুর্তি বানানোর কাজে ব্যস্ত থাকায় সময়মত খাওয়া দাওয়া করতেও পারছি না।
হৈ-হুল্লে¬াড়ের মধ্য দিয়ে মাটির তৈরি প্রতিমার রূপ দিতে প্রবীণ কারিগরদের ডাক পড়ে সবার আগে। তাদের পৈতৃক পেশা মৃৎ শিল্পকে নিজ পেশা হিসেবে কর্মময় জীবনের অধ্যায়ে পরিণত করেছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে কারিগররা বাড়তি রোজগারের আশায় প্রতিমা বানাতে আসে মন্ডপে। আগে সাজ সাজ পরিবেশ থাকলেও এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। কারণ জানতে চাইলে তিনি আরও জানান, কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। তারপরও কিছু সংখ্যক কুমার পরিবার পূর্ব পূরুষের পেশাকে স্মৃতি হিসেবে আকড়ে ধরে আছে। বর্তমানে পূর্বের অবস্থান না থাকায় মানবেতর জীবন-যাবন করছেন। এছাড়া বছেেরর বেশির ভাগ সময় কাজ না থাকায় অলসভাবে সময় কাটাতে হয়।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী মাহমুদ বলেন, পুলিশ ইতোমধ্যে পূজামন্ডপগুলো নজরদারিতে রাখতে শুরু করেছে। পূজার সময়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ