বাঘায় দুই বছরে আড়াই শতাধিক বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন ইউএনও

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাঘায় দুই বছরে আড়াই শতাধিক বাল্য বিয়ে বন্ধ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম। নির্বাহী কর্মকর্তা দুই বছর আগে এই উপজেলায় যোগদান করেন। তারপর থেকে বাল্য বিয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন আড়াই শতাধিক কিশোরীকে।
সূত্র মতে উপজেলায় কিছু পরিবারের মধ্যে প্রবণতা আছে ১৫ বছর বয়সের আগেই মেয়েদের বিয়ে দেয়ার। বর্তমানে বাল্য বিয়ে যে হারে বাড়ছে তাতে ২০২০ সাল নাগাদ ১৫ বছরের কম বয়সী প্রায় চার শতাধিক কিশোরী স্বামীর ঘরে যাবে। বর্তমানে এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে দ্বিগুনে। আর এই অবস্থাকে কিশোরীদের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি শুধু বাল্য বিয়ে বন্ধই নয়, মাদক নির্মূল, আধুনিক অফিস, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, শহিদ মিনার, ক্যাম্পাস পরিস্কার, বসার স্থান, ফুল বাগান, জঙ্গিবাদ বিরোধী প্রচার, শিক্ষার মান উন্নয়নমূলক কাজ করেন।
এমন এক বয়সে বিয়ে হয়, যখন একটা মেয়ে জানেই না বিয়ের অর্থ কি। এভাবে কিশোরীদের শৈশব ছিনতাই হয়ে যাচ্ছে। তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার আগেই মা হচ্ছে।
সূত্রে জানা যায়, উন্নয়নশীল দেশে ১৮ বছরের কম বয়সী তিন জনের মধ্যে একজন নারীর বিয়ে হয়। আর ১৫ বছরের কম বয়সী নারী শিশুদের বিয়ের হার সেখানে ১০ শতাংশ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম বলেন, বিশেষ করে পদ্মার চরে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি। ফলে এদের মধ্যে দেখা যায়, নানা ধরনের সহিংসতা, নির্যাতন, নিপীড়ন এবং অকালে বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া। বাল্য বিয়ের কারণে নারী নির্যাতনের প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বাল্য বিয়ে বন্ধে সরকাররের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ