বাঘায় দুর্গোৎসবে ঢাকিদের কদর

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


ঢাকিরা এভাবেই মাতিয়ে তুলছেন দুর্গোৎসবের মন্দিরগুরো, আর এজন্যই বাড়ছে তাদের কদর- সোনার দেশ

দূর্গোৎসবে ঢাক ঢোল যারা বাজায়, সেই ঢাকিদের চাহিদা ও কদর উৎসব আসলে বাড়ে। পূজা শুরুর কয়েক দিন আগ থেকে পূজামণ্ডপে ঢাকিদের বাড়ি গিয়ে আমন্ত্রণ ও দরদাম করে মন্ডপে আনা হয়। রীতি অনুযায়ী উৎসবের আগে থেকে পঞ্চমি ও ষষ্ঠির দিন থেকে তিন সদস্যের দল রাত দিন ২৪ ঘন্টার জন্য মণ্ডপে আসে। তারা চুক্তি অনুযায়ী চার থেকে পাঁচ দিন মণ্ডপে থাকে মণ্ডপে খায়।
ষষ্ঠি শুরু হয়েছে গত মঙ্গলবার থেকে। বিসর্জন হবে আগামী শনিবার। দুর্গাপূজার জন্য অর্থের বিনিময়ে মণ্ডপ পরিচালনাকারীদের সঙ্গে ঢাকিরা চুক্তিবদ্ধ হয়। বাজনার তালে নাচ আর নানা ঢঙে অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শনের মাধ্যমে পূজারিরদের নজর কাড়ার চেষ্টা করে ঢাকিরা। মন্ডপে ভিন্ন রকম উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বাজনার শব্দে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। দলভিত্তিক আট হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে থাকেন এই উপজেলার ঢাকিরা।
উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের দিঘা ঋষিপাড়ায় গ্রামে প্রায় ১৮ থেকে ২০টি ঢাকি দল আছে। তারা পূজার সময়ে ঢাক ঢোল নিয়ে চুক্তিভিক্তিক বিভিন্ন পূজা মন্ডপে যান। এসময় পার হলে কেউ নাপিতের কাজ, কেউ স্যান্ডেল সেলাইয়ের কাজ, আবার কেউ বেতের কাঠা-ঝাকা বিক্রির কাজে করেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার পূর্বপাড়া মন্দ্রিরে ঢাকি লিটন চন্দ্র দাস বলেন, পূজার সময়ে মন্ডপে ঢাক বাজায়। অন্য সময়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে বাঁশি বাজায়। এছাড়া এইসব কাজ না থাকলে সেলুনে চুল-দাঁড়ি কাটার কাজ করি। আমার এক ছেলে এক মেয়ে। আড়ানী পূর্বপাড়া মন্দ্রিরে ১৩ হাজার টাকায় চুক্তিতে এসেছেন তিন সদস্যের লিটন চন্দ্র দাসের দল।
দিঘা ঋষিপাড়ায় গ্রামের আরেক ঢাকি সত্যেন কুমার দাস বলেন, গত দুই বছর আগে বড় মেয়েকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা যৌতুক দিয়ে বিয়ে দিয়েছি। ছেলে স্থানীয় স্থানীয় কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়ছে। এভাবে চলছে ২৫ বছর। এছাড়া আমি বিভিন্ন মন্দিরে ২০ বছর যাবত ঢাক বাজিয়ে আসছি। আমার মতো আরো ১৫ থেকে ২০টি দল রয়েছে। তারাও চুক্তিভিক্তিক বিভিন্ন মন্ডপে গেছে।
উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রাম গোপাল শাহা বলেন, উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় এবছর ৪২টি মন্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। উপজেলার সিংহভাগ ঢাকিদের দিঘা ও আড়ানী এলাকা থেকে আনা হয়।
এ বিষয়ে আড়ানী পূর্বপাড়া মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত পূরহিত পবিত্র বাগচি বলেন, আমি শাজাদপুর ডিগ্রী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে লেখাপড়া করি। বাড়িও এই এলাকায়। লেখাপড়ার পাশাপাশি পূরহিতের কাজ করি। আমি নয় বছর থেকে একাজের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া আমার বাবা পেশাদার পূরহিত। বাবার পেশাকে গুরুত্ব দিয়ে আমিও একাজ করছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ