বাঘায় পদ্মার চরাঞ্চলে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন

আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০২৩, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা:


রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। পেঁয়াজ তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। পেঁয়াজ উত্তোলন করতে শত শত শ্রমিক কাজ করছেন। বর্তমানে দাম পেয়ে খুশি চাষিরা।

সোমবার (১৬ জানুয়ারি) পদ্মার চরে চকরাজাপুর বাজারে খুচরা হিসেবে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
পদ্মার মধ্যে কালিদাসখালী চরের গোলাম মোস্তফা জানান, বর্তমানে যে দাম আছে সেটা না থাকলে পেঁয়াজ চাষ করে লাভবান হওয়া মুশকিল হয়ে পড়বে। কারণ বীজ, সার, কিটনাশকের দাম আগের চেয়ে বেশি। চলতি মৌসুমে যারা পেঁয়াজ আবাদ করেছেন, ইতোমধ্যে তারা বিক্রি করতে শুরু করেছেন।

কালিদাসখালী চরের নারী শ্রমিক জয়গন বেগম জানান, চলতি মৌসুমে আগাম জাতের পেঁয়াজ উৎপাদন করে চরের অধিকাংশ চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। পাশাপাশি কাজ করে টাকা রোজগার করে আমাদের সংসার চালাতে সুবিধা হচ্ছে।
আরেক শ্রমিক পারভীন আক্তার জানান, আগাম জাতের পেঁয়াজে চাষে শ্রমিকরা কাজ করে সঙ্গে সঙ্গে মজুরি পেয়ে খুশি।

চকরাজাপুর চরের পেঁয়াজ চাষি বাবলু দেওয়ান জানান, দাম ভালো ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ছয় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার যারা বেশি পেঁয়াজ চাষ করেছেন তারা আর্থিক ভাবে বেশি লাভবান হচ্ছেন।
পদ্মার চরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন জানান, ঢ্যামনা ও চারা নামে দুই ধরনের পেঁয়াজ এলাকায় চাষ হয়ে থাকে। চারা পেঁয়াজের দীর্ঘ সময় মজুদ রাখা যায়। এ পেঁয়াজ বেশি আবাদ হয় উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে। পেঁয়াজের বাজার দর ভালো থাকলে আগামীতে উৎপাদনে আরও বেশি মনোযোগী হবেন চরাঞ্চলের কৃষকরা।

এছাড়া মোকামে পেঁয়াজের যথেষ্ট চাহিদা আছে। পেঁয়াজ নিয়ে কৃষকদের কোন চিন্তা নেই। সরকার যদি এলসি ও ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করে, তাহলে চাহিদা ও দাম থাকবে।

খায়েরহাট এলাকার পেঁয়াজ চাষি সুজন আলী জানান, পদ্মার চরে এক বছরের জন্য চার বিঘা জমি এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়ে লিজ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করি। বীজ, সার, লেবার চাষ বাবদ আরও এক লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। বাজার মূল্য ভালো পাচ্ছি, এতে খুশি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, উপজেলার সর্বত্র কম বেশি পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে যে পরিমাণ পেঁয়াজ চাষ হয়েছে তার চেয়ে বেশি চাষ হয়েছে শুধু পদ্মার চরাঞ্চলে। এ বছর ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা। উপজেলায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৬০০ হেক্টর। চাষ হয়েছে সাড়ে তিন হাজার হেক্টর।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ