বাঘায় পদ্মার চরে নবম শ্রেণির প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বর্জন

আপডেট: জুন ৬, ২০২২, ৯:৩২ অপরাহ্ণ

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:


রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চরে নবম শ্রেণির প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে। সোমবার (৬ জুন) বেলা ১২টায় পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের দায়ি করে এই বিক্ষোভ করে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অর্ধ-বার্ষিকী পরীক্ষার নবম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে স্কুল শিক্ষকদের দায়ি করা হয়েছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী শিক্ষকদের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভটি স্কুল ক্যাম্পাসসহ চকরাজাপুর বাজার প্রদক্ষিণ করে। এই স্কুলে নবম শ্রেণির জেনারেল শাখায় ৫২ জন ও ভোকেশনাল শাখায় ৪৪ জনসহ মোট ৯৬ জন শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছেন।

এ বিষয়ে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সাত্তার বলেন, আমি স্কুলের কাজে রোববার রাজশাহী গিয়েছিলাম। পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী প্রধান শিক্ষক। সকল পরীক্ষার প্রশ্ন অফিসে ছিল। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর তিনি কক্ষে ফ্লাইং শিক্ষক হিসেবে পরিদর্শন করছিলেন।

এই ফাঁকে কোনো এক ব্যক্তি অফিসে ঢুকে বালা দ্বিতীয়পত্রের একটি প্রশ্ন নিয়ে যায়। এ নিয়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা জানতে পারে এবং স্কুলের শিক্ষকদের দায়ি করে শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করে। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর সোমবার সকালে স্কুলে এসে বাংলা দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা বাতিল করে সকল পরীক্ষার শেষে নেওয়া হবে বলে শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হয়। তারপরও প্রতিষ্ঠানের বিপক্ষের কিছু মানুষ শিক্ষার্থীদের উস্কানি দিয়ে এহেন কাজ করে নিয়েছেন।

এ বিষয়ে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, স্কুলের সকল শিক্ষক পরীক্ষার কক্ষে গার্ডে ছিলেন। আমিও কক্ষ পরিদর্শন করছিলাম। অফিস কক্ষে এসে দেখি বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার প্রশ্নের প্যাকেট ছেঁড়া। বিষয়টি পরে প্রধান শিক্ষককে অবগত করা হয়। প্রধান শিক্ষকের সমন্বয়ে পরীক্ষা বাতিল করা হয়। তারপরেও শিক্ষার্থীরা শিক্ষককের কথা কর্ণপাত না করে বিক্ষোভ করে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আমিও দাবি জানাচ্ছি।

চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আজিজুল আযম বলেন, আমি ঢাকায় আছি। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শুনেছি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা বলেন, এ বিষয়ে আমাকে কেউ অবগত করেনি। তবে এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ