বাঘায় পদ্মার চরে পানির মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছে দম্পতি

আপডেট: জুলাই ২১, ২০২০, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী) :


রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার মধ্যে দাদপুর চরে তাদের বাড়ি। সকালে নৌকা যোগে প্লেনপাড়া চরে তারা কাজে যায়। কাজ শেষে বাড়ি ফিরতে হবে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেই। অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে এক বুক পানির মধ্যে আখের আইল দিয়ে ২ বছরের শিশুকে ঘাড়ে করে ও পেছনে তার স্ত্রীকে নিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেতে দেখা যায়। সোমবার (২০ জুলাই) পদ্মার মধ্যে কালিদাসাখালী চর এলাকায় শ্যালোচালিত চলন্ত নৌকা থেকে ছবিটি তোলা হয়েছে। নৌকা থেকে তার বাড়ি দাদপুর চরে বলা হলেও নাম পরিচয় দিতে পারেনি কেউ। তবে তারা স্বামী-স্ত্রী দিনমুজুরের কাজ করে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে ১৫টি চর রয়েছে। ওইসব চরের বেশির ভাগ মানুষ ভূমিহীন অসহায় খেটে খাওয়া মানুষ। তারা প্রতিনিয়ত প্রকৃতির খামখেয়ালি রূপকে বরণ করে বসবাস করছে। আর এদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ শুকনো মৌসুমে কৃষি কাজ আর বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। চরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের গতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক মন্থর। চরে ফসল, সম্পদ ও জনবসতি রক্ষার জন্য কোনো বাঁধ নেই। এসব চরে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ হয়ে থাকে। কোনো চরে ভরা জোয়ারের পানির প্ল¬¬াবন থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা নেই। ওই সব চরে ফসল উৎপাদনের বিষয়টি প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। তারা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করছে, তেমনি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে আছে। তাই তারা সম্পদের মালিকানা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হতে হয় অনেক সময়।
পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, গতবার যে হারে বন্যা হয়েছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে না নিতেই আবারও পদ্মায় পানি বাড়া শুরু করেছে।
কালিদাসখালী চরের কলেজ পড়ুয়া ছাত্র মিলন খান বলেন, আমরা প্রকৃতির সাথে লড়াই করে চরে বসবাস করি। এক বুক পানির মধ্যে যে ব্যক্তির কথা বলছেন, তার চেয়েও ভয়াভয়াতার মধ্যে আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। তবে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আতংকের মধ্যে আছি।
চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিজুল আযম বলেন, কয়েক বছরের ব্যবধানে পদ্মার ভাঙনে প্রায় সহস্রাধিক বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, বিজিবি ক্যাম্প, হাজার হাজার বিঘা আবাদি-অনাবাদি জমি চলে গেছে পদ্মার গর্ভে। এ ভাঙনে গৃহহারা হয়েছে হাজারো পরিবার। তবে বর্তমানে আমাদের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম চরের অবকাঠামো উন্নয়ন করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। পদ্মার চরের মধ্যে ১৫টি চর নিয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়েছে। এই চরের মানুষের জন্য প্রকল্প পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা চলছে। তবে পদ্মায় পানি বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবে মানুষ আতংকিত হচ্ছে।