বাঘায় পদ্মার চরে বিরল রোগে আক্রান্ত সাইফুল মোল্লা

আপডেট: আগস্ট ২৩, ২০১৭, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর চরে বসবাস করে বিরল রোগে আক্রান্ত সাইফুল ইসলাম মোল্লা। তার বয়স ৪৫ বছর। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না। সংসার চলে না চিকিৎসা করাবে কী করে? পাঁচ বিঘা জমি ছিল। ওই জমিও পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে স্ত্রী ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাবন করছেন। সাইফুল ইসলাম মোল্লা বিরল রোগে আক্রান্তের পাশাপাশি সে পাঁচ বছর থেকে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েছে। তিন সদস্যের পরিবার নিয়ে দুঃখে কষ্টে দিন পার করছে।
সাইফুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে এক দুপুরে মাঠে গরুর জন্য ঘাস আনতে যায়। সেখানে পিঁপড়ে কামড় দিয়েছে এমন অনুভব হয়। তারপর কিছুক্ষণ পর অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে থাকি। পরে লোকজন জানতে পেরে বাড়িতে নিয়ে আসে। তারপর থেকে আমার দুই পা মাজা পর্যন্ত শুকিয়ে গেছে। কোন দিকে আকা-বাঁকা হয় না। তারপর থেকে গায়ে ছোট ছোট আবের মতো বের হয়েছে। এগুলোর কোন ব্যাথা নেই। সমস্যা হচ্ছে হাটতে পারি না। মাজা পর্যন্ত  কোনো শক্তি নেই।’
স্ত্রী নামিসা বেগম বলেন, সংসার চলে না চিকিৎসা করাব কি করে। স্থানীয় কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করিয়েছি। ভাল হয়নি। সংসারে আয় করার মতো কেউ নেই। তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে মেজো ছেলে মনির হোসেন ও ছোট ছেলে রতন হোসেন বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেছে। বড় মেয়ে শান্তি খাতুুনকেও বিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন বৃদ্ধ শাশুড়িকে নিয়ে এক বেলা খেয়ে না খেয়ে সংসার চলছে। এরপর আবার বন্যায় বাড়িতে পানি উঠেছে। অন্যদিকে পদ্মার ভাঙন ধেয়ে আসছে। এ বছর এখানে থাকতে পারলেও আগামী বছর এ জায়গা থেকে সরে যেতে হবে। অন্যের বাড়িতে ঝি ও কোনো কোনো সময় অন্যের জমিতে মাঠের কাজ করে যে আয় হয় সেই টাকা দিয়ে সংসার চলে।
বাঘা উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শফিউর রহমান শফি বলেন, সংবাদ পেয়ে সাইফুল মোল্লার বাড়িতে গিয়েছিলাম। তার অবস্থা করুণ।
চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, আমার বাড়ির পাশে সাইফুল মোল্লার বাড়ি। তাকে পরিষদ থেকে সাধ্যমত সহযোগিতা করা হয়। তবে সে দীর্ঘদিন থেকে রোগে ভুগছে।
বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম বলেন, তাকে না দেখে ও পরীক্ষা নিরীক্ষা না করে কিছুই বলা যাবে না। তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা করানো হলে এমন হতো না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ