বাঘায় পদ্মার চরে ভাঙনের হুমকিতে চকরাজাপুর উচ্চবিদ্যালয়

আপডেট: আগস্ট ২২, ২০১৭, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


রাজশাহীর বাঘার পদ্মার চরের মধ্যে ভাঙনে চকরাজাপুর উচ্চবিদ্যালয় হুমকির মধ্যে রয়েছে। যে কোন সময় পদ্মা গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। ফলে স্কুলের সাড়ে ছয় শতাধিক শিক্ষর্থী লেখাপড়ার অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার পদ্মার চরে মধ্যে ভাঙন থেকে বিদ্যালয়ের দুরত্ব দুইশ মিটার। এই বিদ্যালয় যে কোনো সময় পদ্মা গর্ভে বিলিত হয়ে যেতে পারে বলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাকরা আশঙ্কা করছেন। তবে চকরাজাপুর এলাকা গত দুই সপ্তার ব্যবধানে প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের বাড়ি-ঘর পদ্মা গর্ভে ইতোমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। তারা বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বাঘার পদ্মার চরে মধ্যে ৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে চৌমাদিয়া, আতারপাড়া, চকরাজাপুর, পলাশি ফতেপুর, ফতেপুর পলাশি, লক্ষ্মীনগর, চকরাজাপুর, পশ্চিম চরকালিদাসখালি, পূর্ব চকরাজাপুর এগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়। চকরাজাপুর ও পলাশি ফতেপুর এই দুটি উচ্চবিদ্যালয়। এরমধ্যে চকরাজাপুর উচ্চবিদ্যালয়ে ৬৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ভাঙনের ফলে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রয়েছে চরম আতঙ্কে।
চকরাজাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক আবদুর রাজ্জাক, ওহায়েদ মোল্লা, কুরবান সরদার বলেন, ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে আতঙ্কে থাকি। পদ্মায় ক্রমাগত পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে ভাঙনের কবলে পড়েছেন চরের পলাশি ফতেপুর, চকরাজাপুর, খায়েরহাট, মর্শিদপুর, নারায়নপুর, মিস্ত্রিপাড়া, জোতাশি, লক্ষ্মীনগর, পাকুড়িয়া গ্রাম, পানিকামড়া, আলাইপুর, গঙ্গারামপুর, কিশোরপুর, গোকুলপুর, আতারপাড়া, চৌমাদিয়া, মানিকের চর  এলাকা। ভাঙনের ফলে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে পদ্মার চরের চকরাজাপুর ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, ঘর-বাড়িসহ কয়েক হাজার আবাদি-অনাবাদি জমি ও গাছপালা। ভিটে-মাটি হারিয়ে পথে বসেছে দুই শতাধিক পরিবার। এছাড়া মানবেতর জীবনযাপন করছে চকরাজাপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ।
চকরাজাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সেজুতি খাতুন, স্বর্ণা খাতুন, মেগলা খাতুন, জনি সরদার, আবু দাউদ, সাহাদত হোসেন, হাসিবুল ইসলাম, সাম্মি খাতুন, শাকিলা খাতুন, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বৃষ্টি খাতুন, চাঁদনি খাতুন, পপি খাতুন, ইতি খাতুন, সাবানা খাতুন জানায়, আমাদের স্কুলে আসতে হচ্ছে, দুই সেট পোশাক নিয়ে। বাড়ি লক্ষীনগর চরে। স্কুলে আসতে চারবার পদ্মার নালা পার হতে হয়। স্কুলে আসতে অনেক সময় লাগে। কোন কোন সময় নৌকা, আবার কোন কোন সময় পায়ে হেটে আসতে হয়। ফলে জামা-কাপড় ভিজে যায়। আবার  কোন সময়ে বই, খাতা ভিজে যায়। ফলে সঠিক সময়ে স্কুলে আসতে পারি না।
একই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, পদ্মা ভাঙতে ভাঙতে বিদ্যালয় থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে অবস্থান করছে পদ্মার ভাঙন। আজ স্কুল ভালো দেখে গেলাম, কাল এসে দেখতে হবে স্কুল নেই। ফলে আমরা চিন্তায় আছি।
চকরাাজাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুস সাত্তার বলেন, পদ্মার পাড় ভাঙতে ভাঙতে বিদ্যালয়ের কাছে এসে গেছে। ফলে ছেলে-মেয়েদের ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি আজিযুল আযম বলেন, নদী ভাঙনের বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম দুস্থদের মাঝে চাল, ডাল, চিড়া গুড়, চিনি, দিয়াশালাই, স্যালাইন ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া তিনি বলেন, গত বছরের বন্যায় পূর্ব চকরাজাপুর ও চৌমাদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, আতারপাড়া বিদ্যালয় হুমকির মধ্যে রয়েছে। প্রতিষ্ঠান তিনটি ভাঙন থেকে তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ মিটার দুরে রয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান আরা বলেন, প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে প্রথামকি ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদফতরকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙন ও বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে স্কুল সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ