বাঘায় পদ্মার চরে রসুন পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক

আপডেট: জানুয়ারি ৪, ২০১৭, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি



রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চরে রসুন পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। রসুন পরিচর্যায় করতে চরের শত শত শ্রমিক কাজ করছেন জমিতে। গতকাল মঙ্গলবার পদ্মার মুর্শিদপুর চরে রসুন চাষ পরিদর্শন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম। তিনি চাষিদের সঠিকভাবে রসুন চাষ পদ্ধতির পরামর্শ দেন।
পদ্মার মুর্শিদপুর চরের আলম হোসেন বলেন, বিভিন্ন এনজিও ও মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে রসুন আবাদ করেছি। রসুন তুলে তাদের টাকা পরিশোধ করবো। বর্তমান বাজারে গত বছরের প্রতি মণ রসুন বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ছয় হাজার টাকা থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকায়। কিন্তু এবার প্রতি মণ রসুনের গড় উৎপাদন খরচ হবে প্রায় তিন হাজার টাকা থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রসুন আবাদ হয়েছে। এ বছর ১৫ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়েছে।
চকরাজাপুর চরের খোয়াজ সিকদার বলেন, চলতি মৌসুমে যারা রসুন আবাদ করেছেন। তারা পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন। এ বছর তিন বিঘা জমিতে রসুন রোপণ করেছি। আশা করছি ফলন বাম্পার হবে। গতবারের মতো এবারও দাম ভালো হবে আশা করছি। পলাশি ফতেপুর চরের শ্রমিক আজগর হোসেন, আক্তার হোসেন, নাসিম আলী বলেন, চলতি মৌসুমে রসুন উৎপাদন করে চরের অধিকাংশ চাষিরা লাভবান হবেন। পাশাপাশি আমরা কাজ করে সংসার চালাতে সুবিধা হচ্ছে। তাই গত বছর রসুনের দাম ভালো পেয়েছে চাষিরা। ফলে আমরাও কাজ করে সাথে সাথে মুজুরি পেয়ে খুশি। চকরাজাপুর চরের রসুন চাষি আশরাফুল ইসলাম বলেন, রসুন চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছি। এবার ৪ বিঘা জমিনে রসুন আবাদ করেছি। আশা করছি এবারও বম্পার ফলন হবে।
চরের সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল করিম বলেন, গত বার রসুনের দাম পেয়ে এবছর চরের অধিকাংশ লোক রসুনের আবাদ করেছে। রসুন চাষ করে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। বাঘা হাটের রসুন ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন, মোকামে রসুনের যথেষ্ঠ চাহিদা রয়েছে। ফলে স্থানীয় বাজারে পাইকারি ক্রেতার সংখ্যা বেশি হয়। ফলে রসুন নিয়ে চাষিদের কোন চিন্তা নেই। যদি সরকারিভাবে ভারত থেকে রসুন না আসে তাহলে চাহিদা ও দাম থাকবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম বলেন, এ বছর উপজেলা সর্বত্র কম বেশি রসুনের চাষ হয়েছে। উপজেলার দুইটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে যে পরিমান রসুন চাষ হয়েছে, তার চেয়ে বেশি চাষ হয়েছে পদ্মার চরে। তবে গত বছরের চেয়ে এ বছর ফলন ভালো হবে আশা করছেন চাষিরা।