বাঘায় পদ্মার বাঁধে ভাঙ্গন : হুমকিতে ২৫ বাড়ি

আপডেট: জুলাই ২১, ২০২০, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই ভাঙনের কারণে বাঁধের সাথে ২৫টি বাড়ি হুমকির মধ্যে রয়েছে। যে কোনো সময় এই বাড়িগুলো পদ্মা গর্ভে চলে যাবে। ফলে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।
জানা যায়, বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর ভুড়িপাড়া থেকে নাপিতপাড়া পর্যন্ত ২৫০ মিটার পদ্মার বাঁধের সাথে ২৫টি পরিবার বাস করে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এই ভাঙনের কবলে পড়েছে লাল মোহাম্মদ, নজমেল, টেনু, সিরাজুল, আকবর, মাসুদ, কমল, কালু, আলম, তসলেম, রাকিব, সান্টু, সরলসহ ২৫টি পরিবার। তারা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। ছোট ছেলে-মেয়ে, গরু-ছাগল নিয়ে বেকায়দার মধ্যে রয়েছে এই পরিবারগুলো। তারা রাতে ঘুমাতে পারছে না। জিও ব্যাগ দিয়ে অস্থায়ীভাবে রক্ষা করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডেকে বারবার অবগত করা হলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে নাপিতপাড়া নামকস্থানে বাঁধের একটি জায়গায় কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। অন্য জায়গাগুলোর সামনে জিও ব্যাগ ফেলে রক্ষা করার জন্য দাবি জানান ওই পরিবারগুলো।
নাপিতপাড়া পদ্মার বাঁধ সংগল্ন বাড়ির গৃহিণী গোলাপী বেগম বলেন, আমার ৫ কক্ষ বিশিষ্ট আধাপাকা বাড়ি। এই বাড়ি যে কোনো সময় পদ্মায় চলে যাবে। রাতে ঘুম হয় না। এই বুঝি পদ্মায় চলে যাচ্ছে। ফলে গরু, ছাগল, নাতি ছেলে-মেয়ে নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করছি। আমার বাড়ির নিয়ে ৩০-৩৫ ফুট গভীর। অন্যস্থানে চলে যাব জমিও নেই।
এদিকে শাহিন আলম বলেন, বারবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাকে মোবাইল ফোনে অবগত করা হয়। কিন্তু কোনো কাজই হচ্ছে। তবে গত শনিবার বাঁধে কিছু জিও ব্যাগ ফেলেছে। কিন্তু পদ্মার ধারে যে বাড়িগুলো আছে, সেগুলোর পাশে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
এদিকে কালু নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমি বর্ষা মৌসুমে পদ্মায় মাছ ধরে অন্য সময়ে মাঠে কাজ করে তিন সদস্যের সংসার চালায়। আমি খুব কষ্টে ৩ কাঠা জমি কিনে একটি টিনের বেড়া দিয়ে ছাপড়া ঘর দিয়েছি। সেটা হুমকির মধ্যে পড়েছে। অন্য জায়গায় যাওয়ার জমি নেই। কী করবো ভেবে পাচ্ছি না। রাত হলেই খুব ভয় লাগে।
পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজ বলেন, মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির সার্বিক সহযোগিতায় চলতি বছরে ৭২২ কোটি ২৪ লাখ টাকার বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হবে। তবে একটি ভাঙনস্থানে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। আরো কিছু জায়গায় জিও ব্যাগের ব্যবস্থা করার জন্য জানানো হয়েছে। বাঁধটি অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর পশ্চিমের প্রধান প্রকৌশলী একেমএম শফিকুল হক বলেন, পদ্মা নদীর প্রতিটি বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জিও ব্যাগ ফেলা ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ