বাঘায় পদ্মায় পানি, জেলেরা মাছ ধরতে ব্যস্ত

আপডেট: জুন ২, ২০২১, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা:


পদ্মায় নতুন পানি আসায় জেলেরা মাছ ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এক সপ্তাহ থেকে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরের মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েছে। মূল ভূখ- থেকে বিচ্ছিন্ন নদী বেষ্টিত রাজশাহীর বাঘার পদ্মার চর। নদী ভাঙনগ্রস্ত ও সহায়সম্বলহীন মানুষরাই চরে অবস্থান করে। কিছু কিছু চরে স্থায়ী জনবসতি গড়ে উঠেছে। আবার কিছু কিছু চরে অস্থায়ী বসতি রয়েছে।
বন্যা ও বর্ষা মৌসুমে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার ফলে ওই সব নিচু চর এলাকায় স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা সম্ভব হয় না। তবুও তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। এরমধ্যে জাল পেতে মাছ ধরতে দেখা গেছে জেলেদের। তাদের যাওয়ার জায়গা নেই।
চরে ফসল, সম্পদ ও জনবসতি রক্ষার জন্য কোনো বাঁধ নেই। এসব চরে জনবসতি বেশি এবং বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ হয়ে থাকে। কোনো চরে ভরা জোয়ারের পানির প্ল¬¬াবন থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা নেই। ওই সব চরে ফসল উৎপাদনের বিষয়টি প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। চর এলাকার মানুষে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে যেমনি মিলেমিশে বসবাস করছে, তেমনি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে আছে। তাই সম্পদের মালিকানা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক অধিকার বঞ্চিত হয়ে আসছে। বর্ষা মৌসুমে তারা মাঠে কোনো কাজ না থাকায় মাছ ধরে জীবিকা নির্ভর করে।
বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে ১৫টি চর রয়েছে। ওইসব চরের বেশির ভাগ বাসিন্দা ভূমিহীন অসহায় খেটে খাওয়া মানুষ। তারা প্রতিনিয়ত প্রকৃতির খামখেয়ালিকে বরণ করে বসবাস করছে। আর এদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ শুকনো মৌসুমে কৃষি কাজ আর বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।
তাদের অভিযোগ, একটি বাঁধের ব্যবস্থা করা ও চরের খাসজমি বন্দোবস্ত দেয়া নিয়ে অনেক অনিয়ম রয়েছে। যারা চরে বসবাস করছেন তারা বেশিরভাগ ভূমির মালিক নন।
চরবাসীরা মনে করেন, ওইসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে চরের প্রভাবশালী মহল নামে-বেনামে খাসজমির বন্দোবস্ত নিয়ে যাচ্ছে অহরহ। চর এলাকায় যারা ভূমির মালিকানায় কর্তৃত্ব করেন তারা চর ছেড়ে মূল ভূখ-ে বসবাস করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে কৃষির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হওয়ায় তারা চরের ভূমির স্থায়ী উন্নয়নে মনোযোগী হন না। ফলে চরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের গতি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক মন্থর। কোনো চরে এখন পর্যন্ত কোনো আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি।
পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, গতবার যে হারে বন্যা হয়েছিল। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে না নিতেই আবারও পদ্মায় নতুনভাবে পানি বাড়া শুরু করেছে। ফলে আমরা আতংকিত রয়েছি। এছাড়া কয়েক বছরের ব্যবধানে পদ্মার ভাঙনে প্রায় সহ¯্রাধিক বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, বিজিবি ক্যাম্প, হাজার হাজার বিঘা আবাদি-অনাবাদি জমি চলে গেছে পদ্মার গর্ভে। এ ভাঙনে গৃহহারা হয়েছে হাজারো পরিবার। তবে বর্তমানে আমাদের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম চরের অবকাঠামো উন্নয়ন করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ ও পাকা রাস্তা এবং পদ্মার চরে আলাদা একটি ইউনিয়ন পরিষদ করে দিয়েছেন।
চকরাজাপুর চরের মিলন আহম্মেদ জানান, ৮ বছরে আমার দাদার প্রায় ১০ বিঘা, আতার পাড়ার সোবহান মোল্লার ৭৫ বিঘা, সাধু ডাক্তারের ৫০ বিঘা জমি, আয়োর হোসেনের ৩০ বিঘাসহ গাছপালা বিলীন হয়েছে পদ্মার ভাঙনে। বর্তমানে অল্প অল্প ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে কী হবে বলা যাচ্ছেনা। তবে পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আতংকের মধ্যে আছি।
এ বিষয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিজুল আযম বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন। ইতোমধ্যেই একনেকে বাঁধ নির্মাণ কাজের অনুমতি পাশ হয়েছে। যে কোনো সময় বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। পদ্মার চরের মধ্যে ১৫টি চর নিয়ে চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়েছে। এই চরের মানুষের জন্য প্রকল্প পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা চলছে। তবে পদ্মায় নতুন পানি বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবে মানুষ আতংকিত হয়।
বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া সুলতানা জানান, আমার জানা মতে এখনও ভাঙ্গন শুরু হয়নি। তবে পদ্মায় নতুন পানি আসছে।