বাঘায় পদ্মায় ২৬ কিলোমিটার এলাকায় ২২ দিন ইলিশ শিকার বন্ধ

আপডেট: অক্টোবর ৬, ২০২২, ৩:০৪ অপরাহ্ণ


বাঘা প্রতিনিধি :


রাজশাহীর পদ্মায় ২৬ কিলোমিটার এলাকায় মা ইলিশ শিকার নিষেধাজ্ঞা জারি করা করেছে। ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাহাদুল ইসলাম বলেন, ৭ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে ২৮ অক্টোবর ইলিশের প্রজনন সময়। এ সময় ডিম ছাড়ার জন্য মা ইলিশ গভীর সমুদ্র ছেড়ে মিঠা পানিতে চলে আসে। মা ইলিশ নির্বিঘেœ আসা-যাওয়া করার জন্য ২২ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এছাড়া এই ২২ দিন ইলিশ আহরণ, বেচাকেনা, পরিবহন ও মজুদ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ আদেশ বাস্তবায়ন করবে মৎস্য অফিস, বর্ডারগার্ড, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।
উপজেলায় তালিকাভুক্ত জেলেদের সরকারি চাল দেয়া হবে। এছাড়া আড়ানী, বাঘা, বাউসা, গড়গড়ি, মনিগ্রাম, বাজুবাঘা, চকরাজাপুর এলাকার প্রান্তিক পর্যায়ের জেলে ও জনপ্রতিধিদের নিয়ে জনসচেতনামূলক সভা করা হয়েছে। প্রতিটি এলাকায় গঠন করা হয়েছে কমিটি।

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আখতার বলেন, নিষিদ্ধ সময়ের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আইন অমান্য করলে জরিমানা ও দণ্ড করা হবে।
এদিকে বাঘায় প্রজনন মৌসুমে পদ্মা নদীতে মা ইলিশ রক্ষা ও ইলিশ সংরক্ষণে সচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন

আখতার। সভায় স্বগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদুল ইসলাম। সভায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভ’মি) মো. জুয়েল আহম্মেদ, থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল করিম, উপজেলা পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম মেরাজ, চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডিএম

মনোয়ার হোসেন বাবলু দেওয়ান,সুধীজন, গণ্যমান্য ব্যক্তি, আড়ৎদার, মৎস্যজীবী, উপজেলা মৎস্য বিভাগের কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। এসময় বক্তরা বলেন, সরকার ঘোষিত ৭ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের মা-ইলিশ রক্ষার অভিযান সফল করতে ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাত করণ ও মজুতের নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জেলেদের সচেতন করার জন্য নদী এলাকায় মাইকিং ও

পোস্টারিংসহ সকল ধরনের প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে উপজেলা প্রশাসন । এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রতিদিন নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও থানা পুলিশ বিজিবি’র সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞার সময় নিবন্ধিত প্রতি জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। সভায় মৎস্যজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এ মাছ আহরণ ও বিপণন থেকে বিরত থাকতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ