বাঘায় পাঁচ দিন ধরে জনতা সমিতির অফিস বন্ধ

আপডেট: এপ্রিল ২, ২০১৭, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


রাজশাহীর বাঘায় কোটি টাকা নিয়ে পালানো জনতা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডের অফিস পাঁচ দিনেও খোলা হয় নি। সদস্যরা প্রতিদিন অফিসে ধরনা দিচ্ছে। গতকাল শনিবার বিকেলে ভূক্তভোগী সদস্য সেলুন ব্যবসায়ী চন্দন দাস অভিযোগ করে বলেন, অনেক কষ্টে ৪০ হাজার টাকা জমা রেখেছিলাম। হঠাৎ দেখি ২৮ মার্চ অফিস বন্ধ। তারপর থেকে আর কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন এসে দেখি অফিসে তালা ঝুলছে।
জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খন্দকার আবুল কালাম আজাদ ২০০৭ সালের মে মাসে জনতা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির কার্যক্রম শুরু করেন। লালপুর ও চারঘাট উপজেলার কেন্দ্র হিসেবে বাঘা সার্ভিস সেন্টার হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। এই অফিসের অধীনে চলতি বছরের হিসেব মতে সদস্য সংখ্যা ৬০৩ জন। সঞ্জয় এক কোটি ৬৩ লক্ষ ৭৪ হাজার ২৮০ টাকা। কিন্তু ব্যাংকে রয়েছে ১০ হাজার টাকা। মজুত ৪৫ হাজার ৩৬৯ টাকা। পরে ২০১২ সালের ২ অক্টোবর বাঘা জনতা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে নিবন্ধন করে। প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার আঞ্জুমান শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নেওয়া ছিল। টাকার শোকে বন্ধ অফিসের গেইটের সামনে বসে দিন কাটাচ্ছে সদস্য মুনজিরা বেগম নামের এক বিধবা
মুনজিরা বেগম বলেন, ২০১৭ সালের ১২ মার্চ পর্যন্ত তার হিসাবে জমা করেছেন ৪১ হাজার ৮৮০ টাকা। তার ডিএসপি হিসাব নম্বর ৪৮৯ ও বিনিয়োগ নম্বর ৭৮০। সমিতির কার্যক্রম শুরুর পর থেকে তিনি টাকা জমা দিয়ে আসছে।
সদস্য মিলন হোসেন বলেন, আমি প্রতি মাসে ১০০ টাকা করে জমা দিয়েছি। ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ পর্যন্ত তার জমা হয়েছে ৮৪ হাজার ৯০০ টাকা।
এছাড়া আনন্দ মহনের ৩০ লাখ, শিউলি খাতুনের ৫০ হাজার, ফিরজ হাসানের দেড় লাখ, আজমিরা খাতুনের এক লাখ টাকা জমা রেখেছেন বলে জানা জানান।
বাঘা শাখার ম্যানেজারের জুয়েল আহম্মেদ, সহকারি ম্যানেজার সুমন আহম্মেদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায় নি।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, এই সমিতির বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম বলেন, কয়েকজন সদস্যের মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনী ব্যবস্থা নিব।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ