বাঘায় বাবার বিরুদ্ধে দুই মেয়ের অভিযোগ!

আপডেট: জানুয়ারি ৩০, ২০১৭, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি


মায়ের অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বাবা। তারপর থেকে শুরু হয়েছে নির্যাতন। কোন বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলেই নির্যাতন করেন। এই নির্যাতনের মধ্যেই আড়াই বছর ধরে অনেক কষ্টে পড়ালেখা চালিয়ে আসছি। সেটিও বর্তমানে বন্ধ হওয়ার উপক্রম। আমাদের বিয়ে দেয়ার জন্য বাবা উঠেপড়ে লেগেছেন। নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এসেছি বাবার বিচার চাইতে।
এভাবেই বলছিলেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চাকিপাড়া গ্রামের ইউনুস আলীর কলেজ পড়–য়া মেয়ে রাবিয়া খাতুন (১৭) ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছাবিহা খাতুন (১৫)। রাবিয়া খাতুন এবার উপজেলার মোজাহার হোসেন মহিলা ডিগ্রী কলেজ থেকে এইসএসসি পাস করেছে। এর আগে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছিল। আর ছোট বোন ছাবিহা খাতুন আগামী ২ ফেব্রুয়ারি বাঘা ইসলামি একাডেমি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।
রোববার দুপুরে নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দায়েরকৃত অভিযোগে জানা গেছে, রাবিয়া খাতুন এবং সাবিহা খাতুন দুই সহদর বোন। মাথা উচু করে দাঁড়াতে চাই। কিন্তু বাবা ইউনুস আলী দ্বিতীয় স্ত্রী নার্গিস বেগমের কথায় মা রওশনারা বেগমকে অন্যায়ভাবে মারপিট করে। এমনকি লেখাপড়া করার সময়ে রাতে লাইট বন্ধ করে দেয়। এছাড়া পড়ালেখার জাবতীয় সামগ্রী ও পোশাক দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। নিরুপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করলাম।
ছাবিহার মামা হুসবান আলী বলেন, মানুষ কতটা নির্দয় হতে পারে তা দেখতে হলে আমার বোনের বাসায় যেতে হবে। তিনি তার দুলাভাই ইউনুস আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনকে প্রতিনিয়তই মারপিট করে দুলাভাই ইউনুস। এর আগে মারপিট ও নির্যাতনের কারণে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমার বোন রওশানারা বেগমকে ভর্তি রেখে থানায় মামলা করেছিলাম। কিন্তু দুই মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে গ্রাম্য শালিসে মিমাংসা করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম বলেন, দুই শিক্ষার্থীর কান্না দেখে অনেক খারাপ লেগেছে। আমি তাৎক্ষণিক ছাবিহার স্কুলের প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে ইউনুস আলীকে ডেকে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আসেন নি। আমি এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) লিখিতভাবে জানিয়েছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ