বাঘায় বাড়ির পরিত্যক্ত জমিতে কলেজ শিক্ষার্থীর ফল চাষ

আপডেট: জুন ৮, ২০২০, ৯:৫৬ অপরাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা:


মাচা পদ্ধতিতে আঙ্গুর ফল চাষ করেছেন রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী মোশারফ হোসেন-সোনার দেশ

সবুজ পাতার নিচে থোকায় থোকায় ফল দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে যে কোনো মানুষের। মাচা পদ্ধতিতে আঙ্গুরসহ অন্যান্য ফল চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে রাজশাহী কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মোশারফ হোসেন।
মোশারফ হোসেন বাঘা উপজেলার দিঘাদাবিয়াতলা গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে। তার পরিচর্যায় বাড়ির আঙ্গিনার পরিত্যক্ত জমিতে লাগানো বিভিন্ন গাছে থোকায় থোকায় ফল ধরে রয়েছে।
মাচা পদ্ধতিতে আঙ্গুরসহ বিভিন্ন ফল চাষ দেখে অনেকে আগ্রহী হচ্ছে। ছোট বেলা থেকে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা রয়েছে তার। বিভিন্ন ফুল ও ফলের গাছ লাগিয়ে শোভিত করেছে বাড়ির আঙ্গিনা ও বাড়ির ছাদ।
এ বিষয়ে মোশারফ হোসেন বলেন, গাছ লাগানোর প্রতি অদম্য ইচ্ছা আমার মা মনিরা বেগমের কাছ থেকে পেয়েছি। মা ৩ বছর আগে পাশের রুহুল আমিনের বাড়ি থেকে আঙ্গুর গাছের একটি ডগা এনে লাগায়। সেই ডগা রোপন করে পরিচর্চা শুরু করি। তারপর এই গাছ থেকে গত বছর ৫ কেজি আঙ্গুর হয়। এ বছর ১২০ কেজি অর্থাৎ চার মণ হবে। তবে এ পর্যন্ত আঙ্গুর বিক্রি করা হয়নি। শুধু আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশী, দেখতে আসা মানুষদের দিয়েছি। তবে বাজারের আঙ্গুরের মত এটিও সুমিষ্ট।
তিনি আরো জানান, বাড়ির আঙ্গিনায় আঙ্গুর গাছ লাগানোর পাশাপাশি বারি ফোর আম, আম্রপালি, লেবু, পেয়ারা, ডালিমসহ বিভিন্ন ফল ও ফুলের চারা রোপন করেছি। পরীক্ষামূলক এগুলো রোপণ করে ভালো ফলাফল পাচ্ছি। বর্তমানে এ বাগান আরো বেশি পরিমাণ জমিতে সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা আছে।
এ বিষয়ে উপ-সহকারি কৃষি অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, মোশারফ হোসেন আঙ্গুরসহ বিভিন্ন ফল চাষের বিষয়ে পরামর্শ নেয়। তার মতো অল্প জমিতে অধিক ফলন এবং সুমিষ্ট হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ফল চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে অন্যান্য চাষিরা লাভবান হবে। তবে তার লেখাপড়ার পাশাপাশি এমন উদ্যোগ দেখে অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠছে ফল চাষে।