বাঘায় বিদ্যালয় মাঠে ঠিকাদারের নির্মাণ সামগ্রী, নষ্ট হচ্ছে মাঠ

আপডেট: মে ৯, ২০২১, ৯:৪০ অপরাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি:


রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের ফতেপুর বাউসা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ম্যানেজ করে নির্মাণ সামগ্রী রেখে কাজ করছেন এক ঠিকাদার। গত কয়েক মাস ধরে এই বিদ্যালয় মঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। ফলে মালামাল বহনকারী যানবাহন চলাচলে নষ্ট হচ্ছে বিদ্যালয়ের মাঠ ও সীমানার সৌন্দর্য্য।
এ বিষয়ে ফতেপুর গ্রামের কামরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় মাঠে রাস্তা সংস্কারের জন্য পিচ ও পাথর পোড়ানোর কারনে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে। তবে বিদ্যালয় মাঠে ঠিকাদারের মালামাল রাখার অনুমতি দেয়া ঠিক করেনি।
ফতেপুর বাউসা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূরল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় মাঠে ঠিকাদার যে, নির্মাণ সামগ্রী রেখেছে, সেটা ভাড়া হিসেবে নয়। বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে দেয়া হয়েছে।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ঝন্টু আলী বলেন, বিষয়টি প্রধান শিক্ষক আমাকে না জানিয়ে এমন কাজ করেছে। গত মাসে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তারপরও বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলবো। না শুনলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করবো।
এ বিষয়ে ঠিকাদার মাহাবুব হোসেন বলেন, রাজশাহীর মিলন এন্টাপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ফতেপুর এলাকায় দুই কিলোমিটার রাস্তার কাজ পেয়েছেন। আমি ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে থেকে সাব লিজ নিয়ে কাজ করছি। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অল্পদিনের জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে থেকে অনুমতি নিয়ে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। মাঠের যেন কোন ক্ষতি না হয় সেভাবে কাজ করা হচ্ছে। তবে মাঠ নষ্ট হলে সেটা মেরামত করে দিব।
অপর দিকে উপজেলার কালিদাশখালি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠেও ফেলে রাখা হয়েছে ঠিকাদারের নির্মাণ সামগ্রী। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মাঠের একদিকে নির্মাণ সামগ্রী আর পুরো মাঠ ধানের খড় শুকানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কাশেম ওবায়িদ বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ কিভাবে ঠিকাদারকে ব্যবহারের জন্য দেয়া হয়েছে, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিব। তবে প্রতিষ্ঠানের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে প্রধানকে দায়ভার বহন করতে হবে। খেলাধুলার বিঘœ হতে পারে এমন কোন মালামাল বিদ্যালয় মাঠে রাখার নিয়ম নেই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার পাপিয়া সুলতানা বলেন, বিষয়টি জানা নেই। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।