বাঘায় লকডাউন মানছে, মানছেনা

আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০২১, ৯:১৬ অপরাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি:


দেশে চলছে মহামারি করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে নিতে হবে পুলিশের মুভমেন্ট পাস। তবে বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে মুভমেন্ট পাস না নিয়েও নানান কারণ দেখিয়ে মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন। এই লকডাউনে সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে কেউ ব্যবসা করছেন। আবার কেউ বন্ধ করে বসে আছেন।
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কোন কোন বাজারে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছেন দোকানিরা। আবার কোন কোন বাজারের চলছে ক্রেতাদের ভীড়। আবার কোন কোন বাজারে দোকানের এক পাল্লা খুলে রেখে বসে থাকতে দেখা গেছে। উপজেলায় এই লকডাউন কেউ মানছে, আবার কেউ মানছেনা।
আড়ানী পৌর বাজারের রাজ্জাক প্লাজার ছিট কাপড় ব্যবসায়ী মহসিন আলী বলেন, লকডাউনের কারনে দোকান বন্ধ করে রাখা হয়েছে। জনশুন্য জয়ে পড়েছে বাজার। লকডাউনের আগে মোটামুটি ভালই বেচাকিনা ছিল। আমার দোকানে ৮ জন কর্মচারী রয়েছে। এই কর্মচারীরা আমার উপর নির্ভরশীল। দোকান খুলতে পারছিনা। তাই তারা আসছেনা। এরমধ্যে অনেকের বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ ৬/৭ সদস্যের পরিবার রয়েছে। তারা এখন মানবেতর জীবন যাবন করছে।
আড়ানী পৌর বাজারের বাবু স্টোর এর মালিক বাবু কুমার দাস বলেন, সবাই লকডাউন পালন করছে। কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। দোকান খুলে না বেঁচলে খাবো কি। সকাল থেকে ৫০০ টাকা বিক্রি করেছি। তবে কোন কোন ব্যবসায়ীরা লকডাউন মানছে, আবার কেউ মানছেনা।
এদিকে সবজি ব্যবসায়ী মুকুল হোসেন নিয়মের মধ্যেই দোকান খুলে আছেন। কিন্তু কোন ক্রেতা না থাকায় ঘুমিয়ে পড়েছেন। এমনি দৃশ্য চোখে পড়ে শুক্রবার সকালে আড়ানী পৌর বাজারের সবজি বাজারে। করোনা ভাইরাসের কারনে কঠোর লকডাউনে ঘোষণার পর বাজার জনশুন্য হয়ে পড়ে।
তবে শনিবার (১৭ এপ্রিল) হাটে এই সবজি বাজারের কোন নিয়মনীতি মানা হয়নি। দেখা গেছে হাজারো মানুষের ভীড়। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় তদারকি করতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা জানান, করোনা ভাইরাসরে কারণে গণজমায়েত এড়াতে এক সপ্তাহের বন্ধ থাকবে। সতর্কতার সাথে খাবার হোটেল, মুদি দোকান, কাঁচা বাজার এবং ওষুধের ব্যবসা করতে বলা হয়েছে। তবে সীমিত সময়ের জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে।
করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় উপজেলার সকলকে মাস্ক পরে ব্যবসা ও চলাচল করার পাশাপাশি সবাইকে ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। এ নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করার পর থেকে এলাকার বাজারগুলো জনশুন্য হয়ে গেছে। তবে এরমধ্যে কেউ কেউ বিশেষ কাজে বাজারে দেখা যাচ্ছে।