বাঘায় শৈত্য প্রভাবে নষ্ট হচ্ছে শীতকালীন সবজি, পেয়ারা ও কুল

আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০২০, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


রাজশাহীর বাঘায় শৈত্য প্রভাবের কারণে নষ্ট হচ্ছে শীতকালীন সবজি, পেয়ারা ও কুল। ফলে চাষিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উপজেলায় বেগুন, ফুলকপি, পাতাকপি, পালংশাক, লালশাক, কলমি শাক, মুলা, পেঁয়াজ, মরিচসহ শাকসবজি খেতেই নষ্ট হচ্ছে।
উপজেলায় কয়েক দিনের ধরে টানা শৈত প্রভাবের কারণে খেতেই প্রায় ৩০ ভাগ সবজি, পেয়ারা ও কুল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
বাঘা পদ্মার চকরাজাপুর চরের মুলা চাষি শামিম মিয়া জানান, ৯৯ শতাংশ জমিতে মুলা চাষ করে টানা শৈত প্রভাবের কারণে বিপাকে পড়েছি। মুলার পাতা ঘনকুয়াশার কারণে কুকড়া হয়ে খেতেই নষ্ট হচ্ছে। তিনি এ পর্যন্ত মাত্র তিন হাজার টাকার মুলা বিক্রি করেছেন।
আরেক সবজি চাষি আলম হোসেন এ বছর ৩৩ শতাংশ জমিতে ফুলকপি চাষ করেছেন। তিনি জানান, কয়েক দিন থেকে রোদের মুখ দেখা যায়নি। ফলে সবজি শীতকালে ভালো হয়। কিন্তু শীতের পাশাপাশি ঘনকুয়াশার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্প্রে করেও ঠেকানো যাচ্ছে না। তবে উপজেলা কৃষি অফিস কুয়াশা ঠেকানোর জন্য পলিথিন ও দঁড়ি টানিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। এগুলো করে কাজ হচ্ছে না বলে জানান সবজি চাষি পচু সরকার, পিন্টু মিয়া, মজিবর রহমান, আকরাম হোসেনসহ একাধিক চাষি।
আড়ানী পৌর এলাকার পেয়ারা চাষি অধ্যাপক কাজী শফিকুল ইসলাম বলেন, ঠান্ডা ও ঘনকুয়াশায় পেয়ারার গুটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানান, মোট আবাদি জমির মধ্যে ৬৩২ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হচ্ছে। এর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ১৩৩ মেট্রিক টন। গত বছরে ৬২০ হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১৩ হাজার ১৩০ মেট্রিক টন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, বাঘা উপজেলা সবজি প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু কয়েক দিনের ঠান্ডা ও ঘনকুয়াশার কারণে চাষিদের বীজতলায় পলিথিন ও দঁড়ি টানিয়ে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আর দুই/এক দিনের মধ্যে আবহাওয়া ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করছি।