বাঘায় স্কুলের পুরাতন ভবন মেয়াদের আগে টেন্ডারে বিক্রি

আপডেট: June 28, 2020, 10:46 pm

বাঘা প্রতিনিধি :


রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকছাতারী সরকারি প্রাইমারী স্কুলের পুরাতন ভবনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে উম্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। স্কুলের শ্রেণি কক্ষের স্বল্পতার কারণে নতুন ভবনের আবেদন করা হয়। নতুন ভবন নির্মাণের অনুমতি আসলে, সেই পুরাতন ভবন টেন্ডারের মাধ্যমে দেয়া হয়।

বাঘা চকছাতারী সরকারি প্রাইমারী স্কুল- সোনার দেশ

 

 

জানা যায়, উপজেলার চকছাতারী সরকারি প্রাইমারী স্কুল। এই স্কুলটি শিক্ষানুরাগী আবদুর রহমান, বয়েজুল ইসলাম খান, মসলেম উদ্দীনসহ স্থানীয়রা ১৯৯৯ সালে এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের জন্য প্রাইমারী স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০২-২০০৩ অর্থ বছরে ৭ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদফতর সাড়ে ৩ কক্ষ বিশিষ্ট একতলা একটি ভবন নির্মাণ করে। পরে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে ৪ তলা ফাউন্ডেশনে এক তলা বিশিষ্ট ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন আরেকটি ভবন নির্মাণের অনুমোদন হয়েছে। এ দিকে মাত্র ১৭ বছর আগের নির্মিত ভবনটি নতুন ভবন করার জন্য পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়। ২ লাখ ১৬ হাজার টাকায় উম্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। তবে সঠিক পরিকল্পনার অভাবে অর্থ লোপাট হচ্ছে সরকারের।

 

এ বিষয়ে স্কুলের সদস্য রুহুল আমি বলেন, এলাকায় এই স্কুল ছাড়া আর কোন জায়গা নেই। এলাকার কেউ মারা গেলে এই স্কুল মাঠে জানাযা করতে হয়। দুই ঈদে নামাজও পড়ে স্থানীয়রা। স্কুল ভবনের পাশে আরেকটি ভবন নির্মাণ করা হলে মাঠ আর থাকবে না। এছাড়া শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার বিকাশও ঘটবে না। এই চিন্তা থেকেই কর্তৃপক্ষের কাছে পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন ভবন করার দাবি করা হয়।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি পক্ষ দাবি করেন এক বিঘা জমির উপর স্কুলটি। নির্মাণকৃত পুরাতন ভবনটি ভাল রয়েছে। এই ভবনটি রেখে আরেকটি ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা সুন্দরভাবে পাঠদান করতে পারবে এবং শ্রেণি কক্ষের সমস্যা থাকবে না। ওই ভবন ভেঙে একই জায়গায় করা হলে আগের মতোই শ্রেণি কক্ষের সংকট থাকবে। শ্রেণি কক্ষ সংকটের কারণে ঠাসাঠাসি করে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করে।
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, কক্ষের স্বল্পতার কারণে নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে নতুন ভবনের অনুমতি এসেছে। তবে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ওই পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করতে চাচ্ছেন। তবে কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিবেন, সেই সিদ্ধন্তে আমি একমত। এই স্কুলে শিক্ষক রয়েছেন ৪ জন, শিক্ষার্থী রয়েছে ১৪৫ জন।

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবিএম সানোয়ার হোসেন বলেন, পুরাতন ভবন না ভেঙে আরেকটি ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা জায়গা থাকবে না। সেই চিন্তা ভাবনা থেকেই পুরাতন ভবন ভেঙে, ওই স্থানেই নতুন ভবন করার পরিকল্পনা নিয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে।

 

বাঘা উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার ফৌজদার বলেন, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার বিকাশ, স্থানীয়দের বিভিন্ন সমস্যার কথা বিবেচনা করে পুরাতন ভবনটি উম্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ১৬ হাজার টাকায় দেয়া হয়েছে। ভবনটি ভেঙে নিলে নতুন ভবনের কাজ শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. লায়েব উদ্দীন লাভলু বলেন, উপজেলা সমন্বয় এক সভায় স্কুলের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে টেন্ডার দেয়া হয়। সেই টেন্ডারে ২২ জন ঠিকাদার অংশ গ্রহণ করে। এতে টেন্ডার পেয়েছেন আলতাফ খাঁ নামের এক ঠিকাদার।
উল্লেখ্য, একটি পক্ষ পুরাতন ভবনের পাশে নতুন ভবন নির্মাণ এবং আরেকটি পক্ষ পুরাতন ভবন ভেঙে ওই স্থানে নতুন ভবন করার জন্য দাবি করা হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ