বাঘায় হলুদের বাম্পার ফলন || বীজ সংরক্ষণগার নির্মাণের দাবি

আপডেট: জানুয়ারি ২৫, ২০১৭, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা



রাজশাহীর বাঘায় চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদিত হলুদের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চাষ হয়েছে বেশি। কিন্তু বীজ সংরক্ষণে সরকারি ব্যবস্থাপনা না থাকায় মৌসুমে বীজ সঙ্কট দেখা দেয়। তাই এ অঞ্চলে বীজ সংরক্ষণাগার নির্মাণের দাবি চাষিদের।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও বাজার ঘুরে জানা যায়, মাঠে কৃষকরা হলুদ উঠাতে ব্যস্ত। চাষিরা বিভিন্ন যানবাহনে করে বস্তা বস্তা হলুদ বাজারে বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসছেন। ব্যবসায়ীরা কাঁচা হলুদ কিনে চাতালে সিদ্ধ করে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে শুরু করেছে। এছাড়া বাইরের জেলাগুলোতে সরবরাহ করছেন।
আড়ানী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোচর মহল্লার হলুদ চাষি নিজাম উদ্দিন, সেলিম উদ্দিন, হাফিজুল ইসলাম, আবুল কালাম বলেন, উপজেলায় পাবনায়, গাঙ্গীয়া, সোনামুখী, ডিমলা বারী-১ প্রভৃতি জাতের হলুদ চাষ হয়। এই বছর গাঙ্গীয়া জাতের হলুদ ফলন ভালো হয়েছে। এই জাতের হলুদ আকারে মোটা এবং রং অন্য হলুদের তুলনায় ভালো। প্রতি বিঘা জমিতে ৪৫ থেকে ৬০ মণ উৎপাদন হয়েছে। প্রতিমণ কাঁচা হলুদ বিক্রি হচ্ছে সাড় ৬০০ টাকা থেকে এক হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত। হলুদ চাষে জৈবসার ব্যবহারে খরচ খুব কম হয়। বিঘা প্রতি সার ও বীজসহ খরচ হয় প্রায় আট থেকে ১০ হাজার টাকা। এক বিঘা জমির কাঁচা হলুদ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা থেকে ৪৫ হাজার টাকায়।
কুশাবাড়িয়ার গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন বলেন, বাগানের ছায়াযুক্ত জমিতে হলুদ চাষ ভালো হয়। এক সঙ্গে ফল ও হলুদ দুটোই পাওয়া যায়। ডিমলা বারী-১ জাতের এক মণ হলুদ রোপণ করে ১৫ মণ হলুদ পেয়েছি।
হামিদকুড়া গ্রামের সোহেল রানা ও বিরাজ উদ্দিন বলেন, এই বছর বীজের দাম বেশি হওয়ায় এবং রোপণের সময় বীজ সঙ্কটের কারণে বেশি জমিতে আবাদ করা যায় নি। হলুদ উঠানোর সময় বীজ সংরক্ষণ করতে হয়। সরকারিভাবে বীজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে আগামীতে অনেক চাষি হলুদ চাষ করতে আগ্রহী হবে। উপজেলায় সরকারিভাবে বীজ সংরক্ষণাগার নির্মানের দাবি তাদের।
হলুদ চাষি জহুরুল ইসলাম এই বছর ১০ বিঘা জমিতে হলুদের চাষ করে সাড়ে ৫শ মণ হলুদ পেয়েছেন। হলুদ ব্যবসায়ী একরামুল হক বলেন, আড়ানীর হলুদের সুনাম দেশব্যাপী রয়েছে। প্রতি সপ্তার শনিবার ও মঙ্গলবার হাটে হলুদ কিনে ঢাকা, চট্রগ্রাম, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনাসহ বিভিন্ন জায়গাতে নিয়ে যায়।
আড়ানীর চাতাল ব্যবসায়ী দুলু মিয়া বলেন, উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় পাঁচ শতাধিক চাতাল রয়েছে। কাঁচা হলুদ কিনে সিদ্ধ করে শুকিয়ে কিছু দিন ঘরে রেখে বিক্রি করি। বর্তমানে এক মণ শুকনা হলুদ চার হাজার পাঁচ’শ টাকা থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম বলেন, উপজেলায় সাড়ে ৬শ হেক্টর জমিতে হলুদের চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা আট হাজার ৩শ মেট্রিক টন। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন। উপজেলার আড়ানী এলাকার পাশ দিয়ে বড়াল নদী বয়ে যাওয়ায় জমিতে বৃষ্টির পানি জমে থাকে না। উচু ও ছায়াযুক্ত জমিতে হলুদের ফলন ভালো হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ