বাঘায় ১৩ প্রতিষ্ঠান এমপিও হয় নি || তিন শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর কষ্টে জীবনযাপন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা


রাজশাহীর বাঘায় ১৩ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় তিন শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর মানবেতার জীবন যাপন করছেন। শিক্ষক-কর্মচারীরা নিরলসভাবে পাঠাদান করলেও কোন প্রকার বেতন-ভাতা পচ্ছেন না। ফলে তাদের পরিবার নিয়ে জীবন চলছে অর্ধাহারে-অনাহারে। প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে নি¤্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, দাখিল মাদ্রাসা, ইবতেদায়ী মাদ্রাসা, মহাবিদ্যালয়, বিএম কলেজ, আলিম মাদ্রাসা, ডিগ্রি কলেজ।
উপজেলায় শিক্ষা বিস্তারে বেসরকারি পর্যায়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাসহ ২৪টি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এরমধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠান এমওিভুক্ত হলেও বাকি ১৩টি আজও এমপিওভুক্ত হয় নি। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর তিন শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী মানবতের জীবনযাপন করছেন। প্রতিষ্ঠানের শর্তাবলি পূরনের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানের নামে জমি নেয়া, অবকাঠামো নির্মাণ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি ও শিক্ষক নিয়োগ করতে প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যায় করা হয়েছে। ফলে কেবল টিউশন ফির ওপর নির্ভরশীল এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিছু বন্ধ হওয়ার উপক্রম এবং কিছু বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এলাকার শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক-কর্মচারী তাদের শেষ সম্বল বিক্রি করে ডোনেশন দিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে বেতনের আশায় তারা নিঃস্ব হওয়ার পথে। শিক্ষক-কর্মচারী শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে মোটা অঙ্কের ডোনেশন দিয়ে চাকরি নিয়েছেন। দীর্ঘদিন যাবত বেকার শ্রম দিচ্ছেন । এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয় নি। আদৌ হবে কি না তা-ও জানা নেই তাদের। এখন পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারিভাবে কোনো কিছু পাচ্ছেন না।
এমপিওভুক্ত না হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বানিয়াপাড়া নি¤্ন্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, সুলতানপুর গোরস্থান দাখিল মাদ্রাসা, জোতকাদিরপুর দাখিল মাদ্রাসা, আড়ানী দাখিল মাদ্রাসা, খানপুর দাখিল মাদ্রাসা, পারসাওতা আলিম মাদ্রাসা (আলিম শাখা), মনিগ্রাম আদর্শ মহাবিদ্যালয়, ইসলামি একাডেমি উচ্চবিদ্যালয়, কারিগরি ও কৃষি কলেজ (বিএম ও কৃষি শাখা), আবদুর রহমান কারিগরি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ, তেঁতুলিয়া-পীরগাছা বিএম কলেজে (ভোকেশনাল, এইচএসসি, সাধারণ শাখা), চকরপাড়া দাখিল মাদ্রাসা, আড়ানী আলহাজ্ব এরশাদ আলী মহিলা ডিগ্রী কলেজ (ডিগ্রী শাখা)।
সংশ্লি¬ষ্ট বোর্ড থেকে এসব প্রতিষ্ঠান ১০ থেকে ১২ বছর আগে স্বীকৃতি পেয়েছে। অর্থচ এমপিওভুক্ত হয় নি। ফলে এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা বিপাকে পড়েছে।
আড়ানী দাখিল মাদ্রাসার সুপার আবু হানিফ বলেন, বেতন না পেয়ে চাকরি করছি। অন্যের কাছে নিজেকে উপস্থাপন করা কতটা কষ্টকর তা বলা বাহুল্য।
উল্লেখ্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আড়ানী দাখিল মাদ্রাসা অর্ধশত বছরে ও চকরপাড়া দাখিল মাদ্রাসা দুই যুগে এবং অন্যান্যগুলো এক যুগেও এমপিওভুক্ত হয় নি। ইতোমধ্যে এই প্রতিষ্ঠানে কিছু শিক্ষক অবসরে গেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া কিছু শিক্ষক অবসরের অপেক্ষায় রয়েছেন। তবুও এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন এই সকল শিক্ষকরা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ