বাঘা ও বড়াইগ্রাম উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ আজ

আপডেট: মার্চ ৬, ২০১৭, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি ও নাটোর অফিস



রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভার ও বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে আজ সোমবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে উপজেলা নির্বাচন কমিশন। সকাল ৮টা থেকে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
বাঘা উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আড়ানী পৌরসভার উপনির্বাচনে সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চার জন। প্রার্থীরা হলেন, সুলতানা রাজিয়া মলি (মৌমাছি), ছনিয়া বেগম (আঙ্গুর ফল), রোকিয়া বেগম (কাঁচি), আক্তার জাহান (ভ্যানিটি ব্যাগ)।
আড়ানী পৌরসভার কুশবাড়িয়া, গোচর, হামিদকুড়া মহল্লা নিয়ে এক নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৩৩০। এর মধ্যে কুশাবাড়িয়া মহল্লায় ভোটার সংখ্যা এক হাজার ১৪২, গোচর মহল্লায় এক হাজার ৪০, হামিদকুড়া মহল্লায় ৮৪৮।
উপজেলা সহকারী রিটারিং অফিসার মুজিবুল আলম বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে ভোটের আগেরদিন গতকাল রোববার সকাল থেকে তিনটি ভোট কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে এক টানা ১২টি বুথের মাধ্যমে নেয়া হবে ভোটগ্রহণ। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এবং ভোটগ্রহন অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৩ জন, পুলিশ ২৫ জন, আনছার সদস্য ৪২ জন, মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। এ বিষয়ে বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ আলী মাহমুদ বলেন, নির্বিঘ্নে ভোটদান নিশ্চিত করতে ভোট কেন্দ্রগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী খুব গুরুত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।
আড়ানী পৌরসভার দ্বিতীয়বার ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে এক নম্বর ওয়ার্ড সংরক্ষিত আসনে বিজয়ী হন ইলোরা নাজ কেমি। ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর দুই মাস পর এই সংরক্ষিত ওয়ার্ডে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কর্মকর্তা।
এদিকে বড়াইগ্রামের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী ও বিএনপির প্রার্থী উপজেলা বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক সাবেক জোনাইল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম রাসেল। তবে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীর সব চেয়ে ভয় দলীয় সংসদ সদস্যকে নিয়ে। দল মনোনিত প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে সাংসদ অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে।
আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন চলাকালীন অবস্থায় সাংসদের এলাকায় কোন সভা সমাবেশ, অনুদান প্রদান নিষিদ্ধ। কিন্তু সাংসদ অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ এবং অনুদান প্রদান অব্যাহত রেখেছেন। সাংসদের এই বিতর্কিত ভূমিকায় নানা রকম প্রশ্ন উঠেছে। কারণ ইতোপূর্বে ইউপি নির্বাচন সাংসদও বিতর্কিত ভূমিকার কারণে তিনজন এবং উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থীও পক্ষে থেকে অভিযোগ করা হয়েছে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা বিএনপি কর্মিদের নানা রকম ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।
সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনের প্রচারণা ক্রমেই জমজমাট হয়ে উঠেছে। প্রার্থীদের বিরামহীন পদচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে উপজেলার প্রত্যেকটি এলাকা। প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের মন জয় করতে রাত-দিন নাওয়া-খাওয়া ভুলে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুইজন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে গ্রাম-গঞ্জ, পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার, শহর-বন্দর চষে বেড়াচ্ছেন। মাইকিং, পোস্টারিং, উঠান বৈঠক, পথসভার পাশাপাশি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে বেড়াচ্ছেন তারা।
আগামী ৬ মার্চ এ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে দুইটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের মোট ২ লাখ ৭ হাজার ৩৩৬ জন ভোটার ৮১টি কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এবারের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুই বড় দলের একক প্রার্থী হওয়ায় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে বলে সবাই মনে করছেন।
বিএনপির প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম রাসেল বিগত পাঁচ বছর জোনাইল ইউপি চেয়ারম্যান হিসাবে উপজেলা জুড়ে তার পরিচিতি রয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা উপজেলার সব এলাকাতেই মাঠে নেমে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাছাড়া বিগত দুইটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হওয়ায় এবারও বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ও তার অনুসারীরা যথেষ্ঠ আশাবাদী।
অপরদিকে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী ব্যক্তিগতভাবে ঈদ-পূজা-বড়দিনে দরিদ্রদের মাঝে বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণসহ তার বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দক্ষ চিকিৎসক হিসাবে উপজেলা জুড়ে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। সে পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করছেন তিনি। তবে দলের একাংশের নেতাকর্মীরা এখনও মাঠে কিছুটা নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। ব্যক্তিগত ভোটের পাশাপাশি মান-অভিমান কাটিয়ে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভোট নিজের বাক্সে নিতে পারলে তার বিজয়ী হওয়াটাও খুব কঠিন না বলেই মনে করছেন অনেকে।
ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, নির্বাচন চলাকালীন সাংসদ যাতে ভোটারদের প্রভাবিত করতে না পারে সেজন্য নির্বাচনী আচরণ বিধিতে তাঁদের সকল প্রকার সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু সাংসদ অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস সেগুলোর তোয়াক্কা না করে সভা সমাবেশ এবং বিভিন্ন ইছালে ছওয়াবে অংশগ্রহণ করছেন এবং অনুদান ঘোষণা করছেন যা নির্বাচনের আচরন বিধির লঙ্ঘন। তিনি বলেন, ইতোপূর্বে এই সাংসদের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে ইউপি নির্বাচনে তিন জন নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী পরাজিত হয়েছিলেন। তাছাড়া তাঁর অনুসারীদের একটি অংশ নির্বাচনে সেভাবে অংশগ্রহণ করছেন না। আমি চেষ্টা করছি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে কাজ করার জন্য। তিনি বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী মতামত ব্যক্ত করে বলেন, ষড়যন্ত্র বা নির্বাচনে ম্যানুপুলেট করা না হলে তার বিজয় অবশম্ভাবী।
আপরদিকে, বিএনপি প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম ইসলাম ও তার নির্বাচনী সমন্বয়ক রনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থীও তার লোকজন নির্বাচনী প্রচারনার কাজে বাধা সৃষ্টি করছেন এবং নানা প্রকার ভয়ভিতী প্রদর্শন করছেন। নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হলে তারা বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, একটি অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। অপরদিকে সাংসদ অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুসের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি।
তবে গোটা উপজেলা এখন নির্বাচনী প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠলেও বিজয়ের মালাকে গলায় পরবেন সেটি দেখার জন্য সবাইকে ৬ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ একরামুল আলম মারা গেলে পদটি শূন্য হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ