বাঘা থেকে আমের প্রথম চালান গেল ইংল্যান্ড ও হংকংয়ে

আপডেট: জুন ২, ২০২২, ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ

আমানুল হক আমান, বাঘা:


রাজশাহীর বাঘা উপজেলা থেকে আমের রপ্তানি শুরু হয়েছে। বুধবার (১ জুন) এক হাজার কেজি ইংল্যান্ডে ও ৫০০ কেজি হংকংয়ে ক্ষিরসাপাত আমের প্রথম চালান পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বিদেশে নিরাপদ আম রপ্তানির লক্ষ্যে উপজেলার নির্বাচিত কন্টাক্ট গ্রোয়ারদের নিকট থেকে চুক্তিবদ্ধ রপ্তাতানিকারক লি. এন্টারপ্রাইজ ও মাহাতাব এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে এই আম পাঠানো শুরু হয়েছে।

কয়েক বছর থেকে এই আমের চালান বিভিন্ন দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আম চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস।

উপজেলা কন্টাক্ট গ্রোয়ারদের সভাপতি সফিকুল ইসলাম ছানা জানান, এর চেয়ে আনন্দের আরকি আছে। করোনার কারণে গত মৌসুমে আম পাঠানো সম্ভব হয়নি। এ বছর চাষিরা বিদেশে আম পাঠাতে পেরে আরও উৎসাহিত হচ্ছেন। ফলে দেশের অর্থনীতিতেও অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, তাদের সাথে ২০ জন সফল আম চাষী রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে আম রক্ষণা- বেক্ষনের জন্য তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আম রফতানির জন্য উপজেলার ২০ জন চাষিকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। উত্তম কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাগানে উৎপাদিত আম ঢাকায় বিএসটিআই ল্যাবে নমুনা পরিক্ষা করা হয়। এরপরে বিদেশে রপ্তানি করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান জানান, আম চাষ কঠিন হলেও আমে যাতে কোনো ধরনের পোঁকার আক্রমন না ঘটে এজন্য এলাকার আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা ‘ফ্রুটব্যাগিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে আম চাষ শুরু করেছেন।

এতে খরচ বাড়লেও একদিকে আমের গুণগত মান বাড়ছে অন্যদিকে দেশ-বিদেশের ক্রেতারা বেশি দাম দিয়েও আম কিনছেন। রাজশাহীর বাঘার আমের খ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। জেলার অন্য উপজেলার তুলনায় বাঘায় সবচেয়ে গুনগত মানের বেশি আম উৎপাদন হয়ে থাকে।