বাঘা পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট: জুন ৪, ২০২০, ১১:৫০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


পৌর মেয়র আবদুর রাজ্জাক- সোনার দেশ

রাজশাহীর বাঘা পৌর মেয়র আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া প্রকল্প দাখিল করে বিল উত্তোলন, হাট-বাজার ও পৌর মার্কেট ইজারার অর্থ লোপাট, এডিপি প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ, বিমান ট্রাভেল এজেন্সিতে ৮৬ হাজার টাকা বাকি পরিশোধ না করা, ডেঙ্গু ও চলমান করোনা সংকটের নামে ভুয়া ভাওচার দাখিল করে অর্থ হাতিয়ে নেয়া ও চলমান ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬টি কাজে অনিয়মের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন ও জেলা প্রশাসকসহ বেশ কয়েকটি দফতরে অভিযোগ করেছেন সচেতন নাগরিক ফোরামের নেতা সৈকত মাহামুদসহ স্থানীয় এক ঠিকাদার।
অভিযোগে জানা গেছে, বাঘা পৌর মেয়র আবদুর রাজ্জাক পৌরসভার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে পৌর প্রকৌশলীর মাধ্যমে অনিয়ম দুর্নীতি করে চলেছেন। তার বিরুদ্ধে মেসার্স রিপা এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার রবিউল ইসলাম ১ জুন বাঘা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। যার নম্বর ৮। সেখানে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে কদমতলা ডাব্লু বিএম রাস্তা উন্নয়ন কাজ না করে ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা এবং একটি বিপি কোটেশান কাজে ২ লাখ ২৮ হাজার টাকা রিপা এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্সের নামে ভুয়া বিল উত্তোলনের কথা উল্লেখ করায় তাকে হুমকি দেয়ার অভিযোগে তিনি এই জিডি করেন।
এরআগে মেয়র আবদুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশন ও জেলা প্রশাসকসহ বেশ কয়েকটি দফতরে অভিযোগ করেন সচেতন নাগরিক ফোরামের নেতা সৈকত মাহামুদ।
তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, ২০১৮-২০১৯ এবং ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে পৌর সভার চন্ডিপুর গুরুহাট তার নিজস্ব ঠিকাদারকে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকায় ইজারা দেন। এই ইজারা দেয়ার পর এখনো ৬০ লাখ টাকা অনাদায় রয়েছে এবং ইজারা বাবদ এখন পর্যন্ত আয়কর ভ্যাট ব্যাংকে জমা হয়নি। অনুরূপ ভাবে বাঘার হাট দুই বারে ৮০ লাখ টাকা ইজারা দেয়া হলেও অনাদায় রয়েছে ৩০ লাখ টাকা।
অন্যদিকে বাঘা বাজারে পৌরসভার অর্থায়নে পৌর মার্কেট নির্মাণের পর ২৩টি দোকান বাবদ ১ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেলেও ব্যাংকে জমা হয়েছে মাত্র ৬০ লাখ টাকা। বাকি ৪০ লাখ টাকা মেয়র আবদুর রাজ্জাক তার নিজ প্রয়োজনে খরচ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে এডিপি প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার ভুয়া বিল দাখিল করে সরকারি টাকা আত্মসাৎসহ বাঘা শাহি দিঘি উন্নয়ন এবং বাঘা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেট নির্মাণ কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদারকে বিল প্রদানের অভিযোগ করেন সৈকত মাহামুদ। যার সত্যতা স্বীকার করেন বাঘা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনজারুল ইসলাম।
বাঘা অনলাইন ভিসা এজেন্সির পরিচালক রাসেল রহমান জানান, পৌর মেয়র আবদুর রাজ্জাক বিভিন্ন সময় তার কাছ থেকে রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ ইন্ডিয়া যাওয়ার জন্য বিমানের টিকিট ক্রয় করেন। এই মর্মে তিনি তার কাছে ৮৬ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। অথচ তিনি সেই টাকা পরিশোধ করছেন না।
বাঘা পৌরসভার কার্যসহকারী জিন্নাত আলী বলেন, বর্তমানে শহর উন্নয়ন অবকাঠামো খাতে বাঘা পৌর সভার অধীন প্রায় ৭ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। এ সমস্ত কাজের মধ্যে রয়েছে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ।
সম্প্রতি পাকুড়িয়া এলাকায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি রাস্তার কাজ দেখভাল করতে গিয়ে ব্যাপক অনিয়ম হওয়ায় তিনি সেই কাজ বন্ধ করে দেন। এর কিছুক্ষণ পর পৌরসভার প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম তাকে সেখান থেকে ফোন করে পৌরসভায় ডেকে নেন। এরপর ইচ্ছে মতো অনিয়ম করে সেই কাজ করেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।
বাঘা পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান পিন্টু বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে আবদুর রাজ্জাক তার নিজের নামে একটি মোটর সাইকেল দেখাতে পারেনি। অথচ বর্তমানে তিনি ৩০ লাখ টাকা মূল্যের প্রাইভেট কারে ঘুরে বেড়ান। বলিহার গ্রামে একতলা বাড়িকে দ্বিতীয় তলা করেছেন। তিনি প্রতিমাসে একাধিকবার বিমান যোগে ঢাকায় যান এবং হোটেল ওয়েসটিন-এ রাত কাটান। যার একাধিক প্রমাণ তার কাছে রয়েছে ।
বাঘা পৌর যুবলীগের সভাপতি শাহিন আলম, ঠিকাদার কামাল হোসেন ও হিমেল জানান, যে সব লাইসেন্স নবায়ন নাই এ রকম ৬টি লাইসেন্সে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ভুয়া কোটেশান প্রকল্প দেখানোসহ আংশিক কাজ করে অর্থ উত্তোলন করেছেন মেয়র আবদুর রাজ্জাক। যা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
তিনি আরো বলেন, আবদুর রাজ্জাক সম্প্রতি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে রাতে ডিজে পার্টি করে তার হাত দিয়ে টাকা ছিটানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
এসব অভিযোগ বিষয়ে পৌরসভার প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে মেয়রের সঙ্গে কথা বলবেন। তিনি সব প্রশ্নের উত্তর দিবে। তবে চলমান দু’একটি কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঠিকাদারকে বলে সেগুলো ঠিক করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে বাঘা পৌরসভার মেয়র আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হচ্ছে তা সঠিক না। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারাই অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না বলে দাবি করেন তিনি।