বাঘা মাজারে কবরস্থানে প্রবেশের গ্রিলে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন

আপডেট: মার্চ ২৫, ২০১৭, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি



রাজশাহীর বাঘা মাজার শরীফের কবরস্থানে প্রবেশের গ্রিলে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। মাজার শরীফের কবরের উপর দানকৃত টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম এ তালা ঝুলিয়ে দেন।
জানা যায়, মাজারের আটটি দান বাক্সের টাকার সঠিক হিসাব দিতে না পারায় প্রায় নয় মাস আগে নতুন তালা ঝুলানো হয়। আবারও একই অভিযোগে গ্রিলে তালা ঝুলানো হয়েছে। উপজেলা সদরে হযরত শাহদৌলার মাজারে আটটি দানবাক্স রয়েছে। এই মাজার ঘুরতে ও মানত করতে আসা শত শত মানুষ এই বাক্সে টাকা দান করেন। এই দানকৃত টাকা মাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারীরা রাতের আধারে দানবাক্সে নকল চাবি দিয়ে হাতিয়ে নেয় মর্মে অভিযোগ করা হয়। ওই সময় অভিযোগ তদন্তের সত্যতা সাপেক্ষে আটটি দানবাক্সে নতুন তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চাবি সংরক্ষণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে দান বাক্সের বাইরে মাজারের ভেতর দরগা শরিফের কবরস্থান উম্মুক্ত ছিল। এই স্থানে দেখতে ও মানত করতে আসা মানুষ প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা কবরের উপর রাখতো। এই টাকাও মাজারের দায়িত্বরত ব্যক্তিরা সঠিক হিসাব না দিয়ে আত্মসাত করতো মর্মে অভিযোগ হয়। ফলে নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত সাপেক্ষে কবরস্থানে প্রবেশের গ্রিল তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
দরগা শরীফের পাশের স্থানীয় হিরাউল হক ও মুনসাদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজার শরীফকে এখনো দুর্নীতিমুক্ত করেতে পারে নি। দানবাক্সে নতুন তালা ঝুলালেও প্রতি শুক্রবার দরগা শরীফের ভেতরে যে টাকা ও মুরগি আসে তার কোন হিসাবে নেই।
দরগা শরিফের মতোয়াল্লী খন্দকার মনসুরুল ইসলাম রইসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায় নি। তবে দরগা শরীফের খাদেম বাচ্চু মিয়া বলেন, দরগা শরীফের ভেতরের অংশের জমাকৃত টাকা দিয়ে মাজার পরিস্কার করাসহ ১৩০টি আম গাছের পরিচর্যা করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম বলেন, দানবাক্সের চাবি বিধি মোতাবেক সরকারি  কোষাগারে থাকার নিয়ম থাকলেও ব্যতিক্রম ছিল। এই কারণে গত বছরের মে মাসে নতুন তালা ঝুলানো হয়। এছাড়া দরগা শরীফের ভেতরে কবরের উপর দেখতে ও মানত করতে আসা মানুষ টাকা রাখতেন। এই টাকার সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে না মর্মে একাধিক আভিযোগ পাওয়া যায়। তবে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এখানে নতুন তালা ঝুলানো হয়েছে।
বাঘার ঐতিহাসিক হযরত শাহদৌলার মাজার, ৫শ বছরের ঐতিহ্যপূর্ণ শাহী মসজিদ এবং বিশাল দিঘীসহ জাদুঘরকে কেন্দ্র করে এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী আসেন। এদের মধ্যে অনেকেই মাজারের দানবাক্সে নগদ অর্থ জমা দেন। আবার অনেকেই গরু-ছাগল-মুরগি মানত এনে রান্না করে খাবার বিলিয়ে দেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ