বাঘা শাহী মসজিদ পরিদর্শন করেন প্রত্নত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক

আপডেট: মে ১৫, ২০২২, ১০:৩০ অপরাহ্ণ

বাঘা প্রতিনিধি:


রাজশাহীর বাঘা শাহী মসজিদ, জাদুঘর ও মাজার এলাকা পরিদর্শন করেন প্রতœতত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব রতন চন্দ্র পন্ডিত। রোববার (১৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি এই এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় করেন।

জানা যায়, রাজশাহী শহর থেকে ৪৯ কিলোমিটার পূর্বে পদ্মা নদীর তীরে প্রায় ২৫৬ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত দর্শনীয় শাহী মসজিদ। সুবিশাল দীঘি ও আউলিয়াদের সমাধি স্থান দরগাহ্। সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ ফুট উঁচু একটি বেদির উপরে মসজিদটি তৈরি করা হয়েছে। সুলতান নসরত শাহের শাসন আমলে ১৫২৩-২৪ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।

মসজিদটিতে রয়েছে ৫টি দরজা, ১০টি গম্বুজ, ৪টি ষৌচালা গম্বুজ, ভেতরে ৬টি স্তম্ভ, ৪টি অপূর্ব কারুকাজ খচিত মেহেরাব। দৈর্ঘ্য ৭৫, প্রস্থ ৪২, উচ্চতা ২৪৬, দেয়াল চওড়া ৮, গম্বুজের ব্যাস ২৪, উচ্চতা ১২। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে স্থানীয় অন্যান্য ঐতিহাসিক ইমারতের সঙ্গে শাহী মসজিদটিরও ক্ষতি হয়। পরে ১৯৭৬-৭৭ সালে তা পুনঃনির্মাণ করা হয়।

বর্তমানে ৫০ টাকার নোটে ও ১০ টাকার ডাক টিকিটে শোভা পাচ্ছে মসজিদটি। মসজিদ প্রাঙ্গণের উত্তর পাশেই রয়েছে হযরত শাহ্দৌলা ও তার ৫ সঙ্গীর মাজার। ১৯৭২ সালে এখানে তৈরি হয়েছে শাহ্দৌলার নামে বাঘা শাহ্দৌলা ডিগ্রী কলেজ।

কথিত আছে হযরত জহরশাহ (রহ:) ১৪ তোলা বিষ খেয়েও দীর্ঘদিন জীবিত ছিলেন। তার কবরের পাশেই রয়েছে ৩ গম্বুজ বিশিষ্ট একটি ছোট নারী মসজিদ। বর্তমানে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী নারী মসজিদটি ধ্বংশের দ্বারপ্রান্তে পৌছলেও সংস্কারের উদ্দ্যোগ নেই। এ মসজিদটির দৈর্ঘ্য ২০, প্রস্থ ১৩।

দরগাহ শরীফের ভেতরে নির্মিত হয়েছে অপরূপ কারুকাজে আরো একটি মসজিদ। তবে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে স্বাধীনতার ৫০ বছরের স্বীকৃতি পায়নি। অথচ বাঘা প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন সমৃদ্ধ অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

এই প্রাচীন এলাকা পরিদর্শন করেন প্রত্নত্ব অধিদপ্তরের মহা পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব রতন চন্দ্র পন্ডিত। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রত্নত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা, প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের সহকারি প্রকৌশলী খলিলুর রহমান, বাঘা জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এনায়েত হোসেন, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি আনজারুল ইসলাম, বাঘা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সুজিদ কুমার পান্ডে বাকু, সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব সাহা, বাঘা শাহী মসজিদ কমিটির সদস্য আবদুল মজিদ, বাঘা পৌর আ.লীগের সাবেক সাধারণ কামাল হোসেন প্রমুখ।

পরে প্রত্নত্ব অধিদপ্তরের মহা পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব রতন চন্দ্র পন্ডিত উপজেলার নারায়নপুর পালপাড়া সার্বজনিন কেন্দ্রীয় দূর্গামন্দ্রির পরিদর্শন করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ