বাজারে আসছে গুটি আম আজই

আপডেট: মে ১৫, ২০২৪, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

নিরাপদ আমের অঙ্গীকার বজায় থাকুক


আজ ১৫ মে। জেলা প্রশাসনের বেধে দেয়া দিন ধরে রাজশাহীতে শুরু হবে গাছ থেকে আমপাড়া, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের উৎসবমুখর কর্মকাণ্ড। ১২ মে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আম ব্যবসায়ী, আমচাষি এবং কৃষি কর্মকর্তাদের এক মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন জাতের আমপাড়ার দিনক্ষণ ঠিক করে দেয়া হয়েছে। উপস্থিত অংশিজনের মতামতের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক আমপাড়ার দিনক্ষণ ঘোষণা করেন। ঘোষণা অনুযায়ী আজ (১৫ মে) থেকে গুটি জাতের আম পাড়া যাবে। একই সাথে তা সংরক্ষণ ও বাজারজাত করা যাবে।

পর্যায়ক্রমে ২৫ মে থেকে গোপালভোগ, রাণীপছন্দ ও লক্ষণভোগ, ক্ষিরসাপাত (হিমসাগর) ৩০ মে, ল্যাংড়া ১০ জুন, আম্রপালি ১৫ জুন, ফজলি ১৫ জুন, আশ্বিনা ১০ জুলাই, বারি-৪ জাতের আম ৫ জুলাই, গৌড়মতি জাতের আম ১৫ জুলাই, ইলামতি ২০ আগস্ট থেকে পাড়া ও বাজারজাত করতে পারবেন আমচাষি, বাগান মালিক, আড়ত মালিক এবং ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও কাটিমন ও বারি আম-১১ সারা বছর আম সংগ্রহ করা যাবে। তবে কোনো গাছে আগে আমপাকা শুরু করলে উপজেলা প্রমাসনকে অবহিত করে আমপাড়া যাবে। প্রকৃত কারণ ছাড়া আম বাজারজাত করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। কোনো অবস্থাতেই বাজারে অপরিপক্ক আমপাড়া যাবে না।

দেশে সুস্বাদু আম বলতেই রাজশাহী অঞ্চলের আম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁ জেলার আম পেতে দেশের সব জেলার আম-পছন্দ মানুষ অপেক্ষা করে থাকেন। ভোক্তারা নিরাপদ আম পেতেই আকাক্সক্ষা করেন। যাতে করে অপরিপক্ক আম কেমিক্যালস দিয়ে পাকিয়ে কিংবা আমে পচনরোধে রাসায়নিক ব্যবহার না হয়। জেলা প্রশাসন সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আমপাড়ার জন্য দিনক্ষণ ঠিক করে দেয়। এতে করে গত কয়েক বছর ধরে আমপাড়া, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। এরই পথ ধরে এখন রাজশাহী অঞ্চলের আম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানিও হচ্ছে।

তবে আম ব্যবসায়ীদের সমস্যাও আছে। রফতানি ক্ষেত্রে প্যাকিং হাউজের বড় সমস্যার কথা তারা বলছেন, পরিবহন ব্যবস্থার সহজ ও সুলভ করার দাবিও আছে। নিশ্চয় এসব সমস্যা নিয়ে কথা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেয়ার দাবি রাখে।

তবে আম বিকিকিনির ক্ষেত্রে যে শৃঙ্খলা ও নিরপদতার আস্থা সৃষ্টি হয়েছে তাকে নিষ্ঠার সাথে প্রতিপালনে কোনো প্রকার আপোস করা যাবে না। এটি ভোক্তা বিক্রেতার মধ্যেকার সম্পর্ক ও আস্থার সেতুবদ্ধ তৈরি হবে।

Exit mobile version