বাজারে নজরদারি : নিম্নমুখি ডিম ও মুরগির দর

আপডেট: আগস্ট ১৯, ২০২২, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

মুত্তাকিন আলম :


জাতীয় সংকট বিবেচনায় সরকারি সিদ্ধান্তে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড বৃদ্ধির পরপরই লাগামহীনভাবে দাম বাড়তে থাকে মাছ-মাংস-ডিম ও চালের। তেলের সঙ্গে ডিমের দাম বৃদ্ধিতেও রেকর্ড তৈরি হয় রাজশাহীর বাজারে। তবে প্রশাসনিক নজরদারির পর হাফ সেঞ্চুরি থেকে হালিতে ৮-১০ টাকা কমলো ডিমের দাম। ব্রয়লার মুরগির দামও কেজিতে ২০ টাকা কমেছে। তবে আগের চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল ও ময়দা।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) বেলা ১১ টার দিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ নগরীর হড়গ্রাম বাজারে অবস্থিত রবিউল মুরগি ঘরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কেজিতে ১০ টাকা বেশি নেয়ার অপরাধে তাকে জরিমানা করা হয়। প্রদর্শিত মূল্য তালিকায় ২৭০ টাকা কেজি সোনালী মুরগি হলেও তিনি ২৮০ টাকা দরে বিক্রি করছিলেন।

এছাড়া একই বাজারের তাসু স্টোরকে ডিমের মূল্য প্রদর্শিত না করায় ১ হাজার, পিয়ারুল মুরগি ঘরকে ১ হাজার এবং নগরীর কালুর মোড়ের রাজা স্টোরকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এরআগে বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) মূল্য তালিকা না থাকা ও বেশি দামে বিক্রির দায়ে আল মদিনা ট্রেডার্সকে এক হাজার টাকা ও মধুঘরকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) নগরীর সাহেববাজার, মাস্টারপাড়া, উপশহর নিউ মার্কেট ও শালবাগান কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, রঙ ও সাইজভেদে প্রতিহালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৬ থেকে ৪০ টাকা দরে। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে ১৭০ টাকা দরে।
তবে সবজির বাজারে দাম একটু চড়া। সবজির মধ্যে বেগুন প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে, আলু কেজিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা দরে, করলা কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫০ টাকা দরে, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, লাউ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা দরে, ঢেঁড়স ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, বরবটি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পটল প্রতিকেজি ২০ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতিকেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ঝিঙ্গা ৪০ টাকা, পুঁইশাক শাক প্রতিকেজি ২৫ টাকা দরে, লালশাক ও সবুজ শাক ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া কলমি শাক প্রতি আঁটি বিক্রি হয়েছে ২০ টাকা, কাঁচাকলা প্রতি হালি ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে, লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৬ থেকে ৮ টাকা, দেশি শসা প্রতি কেজি ৮০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে, মুলা প্রতিকেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। পেঁয়াজ প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা দরে। দেশি রসুন প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা ও ইন্ডিয়ান রসুন ১০০ টাকা কেজি দরে। আদা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা দরে।

মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ২ কেজি ওজনের রুই মাছ কেজি প্রতি বিক্রি হয়েছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা। তেলাপিয়া প্রতিকেজি ২২০ টাকা, পাঙাস মাছ বিক্রি হয়েছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, শিং মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, কৈ মাছ ২০০ থেকে ৮৫০ টাকা। পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হয়েছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। ইলিশ সাইজভেদে বিক্রি হয়েছে ১১ শো ২ হাজার টাকা পর্যন্ত।
সোনালী মুরগি ২৮০ টাকা ও লেয়ার মুরগি ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস ৬৫০ থেকে ৬৮০ ও খাসির ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান-আল-মারুফ জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাজার অস্থিতিশীল করে অবৈধ ফাঁয়দা লুটার অপচেষ্টা চালিয়েছে। তিনি বৃহস্পতিবার নগরীর খড়খড়ি, আশরাফের মোড় ও নলখোলা মোড়ে ডিমের আড়ৎ ও খুচরা দোকানে অভিযানে যান। এসময় আড়তে সাদা ডিমের হালি পাইকারি দর ৩৭-৩৮ টাকা, লাল ডিমের পাইকারি দর ৩৮-৪০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে এ দর নিয়ে খুচরা বাজারে গেলে সেখানে ক্রেতারা অভিযোগ করেন সকালে ৪৬ টাকা দরে ডিম বিক্রি হয়েছে। বাজারে যাওয়ার পর হালিতে ৬ টাকা কমে ডিমের দাম ৪০ টাকা হয়ে গেছে। অন্তত ৩০ দোকানে মূল্য তালিকায় একই দর দেখা যায়।

তিনি আরও জানান, তারা প্রতিদিনই বাজার মনিটরিং করছেন। কেউ ভোক্তার অধিকার ক্ষুণ্ন করলে অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ